ভোরের কনকনে ঠান্ডা আর হালকা কুয়াশার আবরণে শনিবার (১০ ডিসেম্বর) পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় শীতের তীব্রতা স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে। সকালে শীতের দাপট থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের দেখা মিলেছে, এতে দিনের বেলায় কিছুটা উষ্ণতা ফিরেছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৬টায় তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল ৯টায়ও তাপমাত্রা অপরিবর্তিত ছিল। এদিনও দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে তেঁতুলিয়ায়।
এর আগে শুক্রবার সকাল ৬টায় তাপমাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সকাল ৯টায় ছিল ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ছিল সেদিন দেশের সর্বনিম্ন।
বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ওঠে ২০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আগের দিন এই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
স্থানীয়ভাবে ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা লক্ষ্য করা গেছে। গত চারদিন ধরে নিয়মিত সূর্যের দেখা মিললেও শুক্রবার সূর্যের তেজ ছিল তুলনামূলক বেশি। এতে দিনের বেলায় শীতের প্রকোপ কিছুটা কম অনুভূত হয়। তবে গভীর রাতের দিকে বাতাসে ছোট ছোট কুয়াশার কণা টের পাওয়া যাচ্ছে। শনিবার সকাল ৮টার আগেই কুয়াশা কেটে গিয়ে চারপাশ পরিষ্কার হয়ে আসে।
শীতের এই পরিস্থিতিতে নদী থেকে বালু ও পাথর উত্তোলনকারী শ্রমিকদের কাজে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ঠান্ডায় তাদের হাত-পা অবশ হয়ে আসছে। একইভাবে কৃষি শ্রমিকদের জন্যও মাঠে কাজ করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। জেলা সদরসহ বিভিন্ন হাসপাতালে শিশু ও বয়স্কদের শীতজনিত সমস্যায় ভর্তি হওয়ার সংখ্যাও বাড়ছে। অধিকাংশ রোগী শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত শীতের কারণে শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়ার প্রকোপও কিছুটা বেড়েছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জীতেন্দ্রনাথ রায় জানান, গত দুইদিন ধরে তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হলেও দিনের বেলায় রোদের দেখা মিলছে। এতে টানা শীতের মধ্যেও মানুষ কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, জানুয়ারি মাসজুড়ে তাপমাত্রার এমন ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে।
ইখা