এইমাত্র
  • ভোলায় পাওনা টাকার দ্বন্দ্বে প্রাণ গেল যুবকের
  • ইসিতে ৩২ মিনিটে ১২ প্রার্থীর আপিল নিষ্পত্তি
  • বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আরাকান আর্মির গুলিতে শিশু নিহত
  • বাউফলে যুবকের বিরুদ্ধে দুই বান্ধবীকে ধর্ষণের অভিযোগ
  • পঞ্চগড়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রায়ও সূর্যের তেজ
  • ইবি ছাত্রশিবিরের নতুন সভাপতি ইউসুব, সেক্রেটারি রাফি
  • নেত্রকোনায় ট্রেনের থাক্কায় রাইসমিলের দুই শ্রমিক নিহত
  • বাংলাদেশ-চীনকে নজরে রাখতে নতুন নৌঘাঁটি করছে ভারত
  • বেনাপোল বন্দর দিয়ে দুই সপ্তাহ ধরে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ
  • টাঙ্গাইলে পরিত্যক্ত খামার থেকে খুলি, পা, মেরুদন্ডের হাড় উদ্ধার
  • আজ রবিবার, ২৮ পৌষ, ১৪৩২ | ১১ জানুয়ারি, ২০২৬
    আন্তর্জাতিক

    বাংলাদেশের আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে যা বলছে যুক্তরাষ্ট্র

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম
    আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম

    বাংলাদেশের আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে যা বলছে যুক্তরাষ্ট্র

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম

    আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ প্রক্রিয়ায় দৃঢ় সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে দেশটি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন প্রত্যাশা করছে।

    শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ওয়াশিংটন ডিসিতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে এক বৈঠকে এ কথা জানান মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের রাজনৈতিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকার।

    শনিবার (১০ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বৈঠকে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকটসহ আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ড. রহমান আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি ও আয়োজন সম্পর্কে হুকারকে অবহিত করেন। একইসঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে নির্বাচনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

    অ্যালিসন হুকার জানান, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো সমর্থন অব্যাহত থাকবে এবং তারা আগামী ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা করেন।

    বৈঠকে সম্প্রতি আরোপিত মার্কিন ‘ভিসা বন্ড’ ব্যবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত সহজ করার অনুরোধ জানিয়েছেন ড. খলিলুর রহমান। সম্ভব হলে বি-১ (স্বল্পমেয়াদি ব্যবসা) ভিসার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের এই ‘ভিসা বন্ড’ থেকে অব্যাহতি দিতে বিশেষ অনুরোধ করেন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। অ্যালিসন হুকার বিষয়টি আমলে নেন এবং মার্কিন সরকার এই পদক্ষেপটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে বলে আশ্বাস দেন।

    ভবিষ্যতে যদি পর্যটকদের নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত অবস্থানের (ওভারস্টে) হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে, তবে যুক্তরাষ্ট্র এই বন্ডের প্রয়োজনীয়তা পুনর্বিবেচনা করতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। এছাড়া, নথিপত্রহীন বাংলাদেশিদের স্বদেশে ফিরিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে ঢাকার আন্তরিক সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন হুকার।

    যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন ড. খলিলুর রহমান। এসময় বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি নিরবচ্ছিন্ন সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি। সেইসঙ্গে এই সহায়তা ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখারও অনুরোধ করেন তিনি।

    বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে বড় দায়িত্ব বহন করছে, তার জন্য ধন্যবাদ জানান মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের রাজনৈতিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকার। এই সংকটের সমাধান এবং দায়ভার সবার মধ্যে ভাগ করে নেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশে থাকাকালে রোহিঙ্গাদের জীবনমানের সুযোগ বাড়ানোরও অনুরোধ জানান।

    এছাড়া, বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের জন্য ডিএফসি অর্থায়নে প্রবেশাধিকার এবং দেশের সেমিকন্ডাক্টর উন্নয়নে বিশেষ আর্থিক সহায়তা দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অনুরোধ জানান জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান। প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন হুকার।

    বৈঠকে গাজায় মোতায়েন হতে যাওয়া ‘আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা বাহিনী’র অংশ হতে বাংলাদেশের নীতিগত আগ্রহের কথাও জানান জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। হুকার বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।

    এদিকে, আলাদা এক বৈঠকে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। এতে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকট, ভিসা বন্ড ও বাণিজ্য-বিনিয়োগসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পায়।

    পরে বাংলাদেশে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের শপথ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন ড. খলিলুর রহমান। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর আয়োজিত এ শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থাপনা ও সম্পদবিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল জে রিগাস।

    অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, দূতাবাসের কর্মকর্তা, মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর ও সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং শীর্ষ ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

    নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের উজ্জ্বল গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের পথে সহায়তা করে যাবে। আমি নির্বাচনের ফলাফলের অপেক্ষায় আছি এবং নবনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে কাজ করতে চাই।

    এনআই

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    Loading…