উত্তর কোরিয়া শনিবার দাবি করেছে, ৪ জানুয়ারি দক্ষিণ কোরিয়া আরেকটি ড্রোন তাদের আকাশসীমায় উড়িয়েছে, যা দেশটির সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ এ কথা জানিয়েছে।
এই ঘোষণা আসে এমন এক সময়, যখন উত্তর কোরিয়া আগামী পাঁচ বছরের নীতি নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলীয় কংগ্রেস আয়োজন করতে যাচ্ছে। একজন বিশ্লেষকের মতে, এটি নেতা কিম জং উনের সেই বক্তব্যকে আরো পোক্ত করার প্রেক্ষাপট তৈরি করছে যে দক্ষিণ কোরিয়া বিদেশি ও শত্রু রাষ্ট্র।
কেসিএনএ জানায়, ড্রোনটি দক্ষিণ কোরিয়ার ইনকিওন শহরের একটি দ্বীপ থেকে উড়ে এসে প্রায় আট কিলোমিটার ভেতরে প্রবেশ করে এবং উত্তর কোরিয়ার আকাশসীমার মধ্যে গুলি করে ভূপাতিত করা হয়। এই তথ্য উত্তর কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্রের বরাতে দেওয়া হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ড্রোনটিতে নজরদারি ক্যামেরা ছিল, যা উত্তর কোরিয়ার ‘গুরুত্বপূর্ণ’ স্থাপনাগুলোর ছবি ধারণের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল। কেসিএনএ প্রকাশিত ছবিতে ভাঙা অবস্থায় উদ্ধার করা ড্রোনের অংশ, ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ এবং ভবনের আকাশচিত্র দেখা যায়—যেগুলো ড্রোনটি তুলেছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
কেসিএনএ জানায়, এই ঘটনাটি সেপ্টেম্বর মাসে সংঘটিত আরেকটি অনুপ্রবেশের পর ঘটল, যখন দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ড্রোন গুলি করে নামানো হয়েছিল।
কেসিএনএ বলে, ‘শাসন পরিবর্তনের পরও… (দক্ষিণ কোরিয়া) সীমান্তের কাছে ড্রোন ব্যবহার করে এমন উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে,’ এবং দক্ষিণ কোরিয়াকে তাদের ‘সবচেয়ে শত্রুভাবাপন্ন শত্রু’ হিসেবে আখ্যা দেয়।
গত জুনে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি যে মিউং দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পিয়ংইয়ং তার প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া সমঝোতামূলক উদ্যোগগুলো প্রত্যাখ্যান করে আসছে। কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা কমাতে পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে পুনরায় সংলাপে বসার অঙ্গীকার করেছিলেন লি।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী শনিবার জানিয়েছে, অভিযোগে উল্লিখিত ড্রোন মডেলটি তারা পরিচালনা করে না, উত্তর কোরিয়া যে তারিখের কথা বলছে সেদিন তারা কোনো ড্রোন চালায়নি, এবং কোনো বেসামরিক ব্যক্তি ড্রোনটি চালিয়ে থাকতে পারে কি না—তা খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে।
এক বিবৃতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানায়, ‘উত্তর কোরিয়াকে উসকানি দেওয়ার কোনো ইচ্ছা আমাদের নেই এবং উত্তেজনা কমানো ও আস্থা গড়ে তুলতে আমরা বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ ও প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব।’
এবি