ভোলার লালমোহনে নির্বাচনী প্রচারকে কেন্দ্র করে উপজেলায় বিএনপি ও ১১ দলীয় জোটের (জামায়াতসহ) নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১৫ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য দু'জনকে ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার রামাগঞ্জ ইউনিয়নের রায়চাঁদ বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)-এর কয়েকজন নারী কর্মী রায়চাঁদ বাজার এলাকায় গণসংযোগে যান। তারা সেখানে এক বিএনপি নেতার বাড়িতে গেলে কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মী একত্রিত হয়ে তাদের প্রচারে বাধা দেন এবং তাদের চলে যেতে বলে গালমন্দ করেন।
পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ওই নারী কর্মীদের একজনের স্বামী ও জামায়াত কর্মী জসিম উদ্দিন মোবাইল ফোনে সংশ্লিষ্ট বিএনপি কর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাকেও অকথ্য ভাষায় গালিমন্দ করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিকেলের দিকে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে দু'পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
সন্ধ্যায় খবর পেয়ে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নিজামুল হক নাঈম এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবালসহ উভয় দলের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত করেন।
তবে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, আলোচনা শেষে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় বিএনপির কয়েকজন কর্মী পেছন থেকে তাদের উপর অতর্কিত হামলা করেন। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে শুরু হয় সংঘর্ষ। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপে পুরো এলাকা পরিণত হয় রণক্ষেত্রে।
এদিকে, পাল্টা অভিযোগ এনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবাল বলেন, ‘সমঝোতার পর ফিরে আসার সময় জামায়েতের নেতাকর্মীরা আমাদের উপর হামলা চালায়। এ সময় ছাত্রদল, যুবদলসহ বিএনপির ১২ জন নেতাকর্মীকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে।’
অন্যদিকে, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নিজামুল হক নাঈম অভিযোগ করে বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরেই বিএনপির কর্মীরা আমাদের গণসংযোগে বাধা দিচ্ছে। আজ নারী কর্মীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছে। এ ছাড়াও রাতে আমাদের উপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে।’ এ সময় তিনি তাদের ১১ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ অলিউল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশের কয়েকটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলো তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
ইখা