বরগুনার আমতলী উপজেলায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে চাচাতো ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে আরেক চাচাতো ভাই নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে আমতলী উপজেলার উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম জহিরুল সিকদার। তিনি চাচাতো ভাই ফরিদ সিকদারকে রক্ষা করতে গিয়ে অপর চাচাতো ভাই মুনসুর সিকদারের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামের ফরিদ সিকদারের সঙ্গে মুনসুর সিকদারের দীর্ঘদিন ধরে ১০ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। শনিবার বেলা ১১টার দিকে ফরিদ সিকদার ওই জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে ক্ষুব্ধ হয়ে মুনসুর সিকদার একটি ছুরি নিয়ে তাঁকে ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে ছুরি নিক্ষেপ করলে তা ফরিদ সিকদারের পায়ে লাগে।
ফরিদ সিকদারের চিৎকারে চাচাতো ভাই জহিরুল সিকদার ঘটনাস্থলে ছুটে এসে মুনসুর সিকদারকে নিবৃত করার চেষ্টা করেন। এ সময় মুনসুর সিকদার জহিরুল সিকদারের পেটে ছুরিকাঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সজিব সিকদার বলেন, জমিজমা নিয়ে মুনসুর সিকদারের ছেলে জাকির সিকদার দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি করে আসছিল। তাঁর উসকানিতেই এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান জানান, জহিরুল সিকদারকে হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর পেটে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
খবর পেয়ে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত মুনসুর সিকদারকে আটক করেন। পরে তাঁকে থানায় নেওয়া হয়।
সহকারী পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম মাসুম বলেন, অভিযুক্ত মুনসুর সিকদারকে আটক করা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
ইখা