গত ১৬ মাসে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিংয়ের শিকার হওয়ার দাবি করে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, বাংলাদেশে গত ১৬ মাসে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিং কার বিরুদ্ধে হয়েছে? আমার বিরুদ্ধে হয়েছে, চ্যালেঞ্জ করে বললাম। প্রথম চার মাসে শুধু চারটা ডেডিকেটেড ভিডিও করা হয়েছে আমাকে টার্গেট করে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ শীর্ষক পলিসি ডায়ালগে এসব কথা বলেন তিনি।
আসিফ নজরুল বলেন, আমি ১৫ বছর ছিলাম পাকিস্তানের দালাল, ওভার নাইট আমি ভারতের দালাল হয়ে গেছি। আমার আমেরিকায় বাড়ি আছে, আমার পরিবার চলে গেছে অলরেডি আমেরিকায়। প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করে বলেছি আজ থেকে ছয় মাস আগে, কেউ খুঁজে বের করতে পারেনি। যেই মিথ্যুক, যে যে বদমাইশ এগুলো প্রচার করেছে, তাদের কেউ কিছু বলেছেন? এর চেয়ে বড় সাইবার বুলিং হয়? একটা মানুষ যার জীবনে সততা সবচেয়ে বড় অহংকার, তার বিরুদ্ধে এই ধরনের ক্যাম্পেইন করা হয়েছে।
জুলাইয়ের মামলাগুলোয় জামিনের ব্যাপারে তার হাত নেই দাবি করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে যত জামিন হয়েছে জুলাইয়ের ঘটনায়, এই জামিনের ৯০ শতাংশ হয়েছে হাইকোর্ট থেকে। হাইকোর্টে যে জামিন দেয়, জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে যদি কোনো ভুল থাকে সেটা বিচারকের দোষ। বিচারকদের অনেকেই আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস্ট আমলে নিয়োগ পাওয়া, তাদের সরানোর দায়িত্ব ছিল প্রধান বিচারপতির অধীনে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে। এখানে আইনমন্ত্রী কিছু করতে পারেন না। আমি কি হাইকোর্টের বিচারককে সরাতে পারি?
আইন উপদেষ্টা বলেন, হাইকোর্টের বিচারক জামিন দিলে আমি কি হাইকোর্টের বিচারকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারি? হাইকোর্টের বিচারক যদি অন্যায়ভাবে জামিন দেন, এটা হাইকোর্টের বিচারকের দোষ। আর হাইকোর্টের বিচারকের নিয়ন্ত্রণকারী হচ্ছে প্রধান বিচারপতি। তাহলে প্রধান বিচারপতিকে আপনারা প্রশ্ন করেছেন? হাইকোর্টে যতগুলো জামিন হয়েছে, সবগুলা আমার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। আপনি যদি সত্যি এসব বন্ধ করতে চান, তাহলে আপনি যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে কথা বলেন না কেন?
রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য দায় দেওয়া হয় মন্তব্য করে আসিফ নজরুল বলেন, এই দায়টা আমার ওপর দুইটা কারণে দেয়। একটা হচ্ছে ভিউ ভালো হয়, ব্যবসাটা ভালো হয়, মনিটাইজেশন হয়। আসিফ নজরুলের নামে একটা গালি দিলে একটু টাকা আসে। আরেকটা হচ্ছে- এখানে বিশেষ একটা রাজনৈতিক এজেন্ডা আছে। আসিফ নজরুলকে দুর্বল করলে বিশেষ রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন সহজ হয়।
তিনি আরও বলেন, আমাদের ইসলাম ধর্মে আছে, সবচেয়ে বড় গুণের একটা হচ্ছে আত্মসমালোচনা করা। আসেন আমরা সবাই আত্মসমালোচনা করি। সবাই সবার মতামত, সবার সীমাবদ্ধতা, শক্তিমত্তা বুঝার চেষ্টা করি। এভাবেই যদি আমরা অগ্রসর হই, আগামীতে আমরা ধীরে ধীরে সংস্কারের পথে অগ্রসর হতে পারবো।
এমআর-২