স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার কাছে ৩-২ গোলে হারার পর রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে জাবি আলোনসোর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে উঠেছিল। দ্বায়িত্বকালে ধারাবাহিকতার অভাব, বড় ম্যাচে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতা; সব জেঁকে বসেছিল আলোনসোর ঘাড়ে। যার ফলাফলও দেখা গিয়েছে বার্সার বিপক্ষে হারার পর পরই।
মাত্র ৭ মাসের মাথায় রিয়াল মাদ্রিদের চাকরি হারিয়েছেন ক্লাবের কিংবদন্তী মিডফিল্ডার জাবি আলোনসো। এই বিদায়ের পেছনে নানা কারণের কথা শোনা গেলেও আলোচনায় উঠে এসেছে কিলিয়ান এমবাপের ভূমিকাও।
তবে ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে’কিপ ভিন্ন তথ্য দিচ্ছে। তাদের দাবি, বরং আলোনসোর চাকরি বাঁচাতে শেষ পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়েছিলেন এমবাপে।
শুধু বার্সেলোনার কাছে হারই জাবির বিদায়ের কারণ নয়, সাইরেন বেজেছিল ম্যাচ শেষে কয়েকটি মুহূর্ত পর্যালোচনা শেষে। পুরস্কার বিতরণীর সময় প্রথাগতভাবে বার্সাকে ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়ার কথা থাকলেও এমবাপে তার সতীর্থদের মাঠ ছেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন।
এমবাপেকে থেকে যেতে বলছিলেন জাবি। কিন্তু এমবাপে নিজের সিদ্ধান্তে অনড়। শেষ পর্যন্ত জাবি মুখ ফিরিয়ে নিয়ে দলের সুপারস্টারের দাবি মেনে নেন। ফলে স্প্যানিশ সুপার কাপ জয়ের পর বার্সেলোনার জন্য কোনো ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন ফুটবলারের সঙ্গে জাবির দূরত্ব তৈরির কথাও শোনা যাচ্ছে।
লে’কিপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত এল ক্লাসিকোটিই যে নিজের কোচের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে, তা ভালোভাবেই বুঝেছিলেন এমবাপে। নেতিবাচক ফল হলে আলোনসোকে ঘিরে রিয়ালের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে—এ বিষয়টি তার মাথায় ছিল। সে কারণেই হাঁটুর চোট থাকা সত্ত্বেও নিজেকে খেলার জন্য প্রস্তুত বলে জানান ফরাসি অধিনায়ক। যদিও চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী অন্তত ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত মাঠের বাইরে থাকার কথা ছিল তার।
ফরাসি সংবাদমাধ্যমটি এমবাপের এই সিদ্ধান্তকে ‘আত্মত্যাগী মানসিকতা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। দলের শীর্ষ গোলদাতা হিসেবে তিনি ভেবেছিলেন, মাঠে তার উপস্থিতি বার্সেলোনার বিপক্ষে লড়াইয়ে বাড়তি শক্তি যোগাবে। তবে ম্যাচের শেষভাগে তাকে নামানো হয়। ৭৬ মিনিটে গঞ্জালো গার্সিয়ার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন এমবাপে। ততক্ষণে তিন মিনিট আগে ৩–২ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল রিয়াল। শেষ পর্যন্ত আর সমতায় ফেরা হয়নি।
চিকিৎসকদের সতর্কতা উপেক্ষা করে এমবাপের মাঠে নামাকে বড় ঝুঁকি হিসেবেও দেখছে লে’কিপ। তাদের মতে, আলোনসোর প্রতি আগে থেকেই শ্রদ্ধা ও আস্থা ছিল এমবাপের। সে কারণেই ব্যক্তিগত ঝুঁকির কথা ভেবে না দেখে কোচের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন তিনি। অন্যদিকে নিজের সেরা স্ট্রাইকারকে পাওয়ার আশায় ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করেননি আলোনসোও।
আরডি