দেশজুড়ে বইছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া। এবার ভোট উৎসবে নতুন মাত্রা যোগ করেছে গণভোট। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বহুল প্রতীক্ষিত গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে সংসদ নির্বাচন নিয়ে ঘরে-বাহিরে, চায়ের দোকানে মানুষের আগ্রহের পারদ তুঙ্গে থাকলেও গণভোট নিয়ে অন্ধকারে নওগাঁর গ্রামগঞ্জের সাধারণ মানুষ।
জানা যায়, এই গণভোট সামনে রেখে নওগাঁয় গত কয়েকদিন আগে শহরের মুক্তির মোড়ে সরকারিভাবে ভোটের গাড়িতে গণভোট সম্পর্কে প্রচার চালানো হয়। জেলার আরো কয়েকটি উপজেলার শুধু প্রাণকেন্দ্রে প্রচার করতে দেখা যায়। তবে গ্রামগঞ্জে প্রচার চালানোর কোন দৃশ্যে চোখে পড়েনি। প্রচারের অভাবে গণভোটের বিষয়ে গ্রামগঞ্জের সাধারণ মানুষ জানেন না কোন বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ কিংবা ‘না’ ভোট দিতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েই শুধু আলোচনা হয়। অনেক প্রার্থী ও সমর্থকরা দলীয় প্রতিকে তাদের কাছে গিয়ে ভোট চেয়েছেন। তবে গণভোট নিয়ে কেউ কোন কথা বলেনি। যেহেতু এবছর গণভোট হবে তাই গ্রামাঞ্চলে বেশি বেশি প্রচার চালানো হলে মানুষ বিষয়টি বুঝতে পারবে।
সদর উপজেলার কুশাডাঙ্গা গ্রামের দিনমজুর রুস্তম আলী বলেন, ‘এমপি বানানোর জন্য মার্কাতে ভোট দেওয়া বুঝি। গ্রামের সবাই এমপি ভোটের কথাই বলছে। কিন্তু গণভোট তো বুঝি না।’
শিকারপুর গ্রামের ইসরাফিল বলেন, ‘এমনি শুনেছি এবার নাকি দুইটা ভোট দেওয়া লাগবে। এমপি (সংসদ সদস্য) বানানোর জন্য ভোট দেওয়া লাগে ঠিক আছে। কিন্তু গনভোট কি-তা তো জানিনা।’
বোয়ালিয়া এলাকার আলম হোসেন বলেন, ‘গণভোট কি জানা নেই। হয়তো কোন রাজনৈতিক দলের পক্ষে-বিপক্ষে হবে এই রকম কিছু।’
রানীনগর উপজেলা মিরাট গ্রামের সোহরাব হোসেন বলেন, ‘মানুষের মুখে শুনেছি এবার এমপি (সংসদ সদস্য) ভোটের পাশাপাশি হ্যাঁ বা না ভোট দেওয়া লাগবে। কিন্তু কি বিষয়ে এই ভোট দেওয়া লাগবে সেটা জানিনা। গ্রামে কেউ কিছু জানে না।’
বদলগাছী উপজেলার জাইজাতা গ্রামের সাত্তার মন্ডল বলেন, ‘গণভোট মানে কি জানি না। এই গণভোটের কথা আজকে প্রথম শুনলাম। কেউ হয়তো ভালো করে বুঝিয়ে দিলে বুঝবো। গ্রামে এ বিষয়ে কোনো প্রচার নেই।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলন নওগাঁর জ্যেষ্ঠ যুগ্ন-আহ্বায়ক ফজলে রাব্বী বলেন, ‘শুধু গ্রামের মানুষ না, শহরের অনেক মানুষ গণভোট সম্পর্কে অবগত নন। শহরে কিছু মাইকিং শুনা যায়, তা পর্যাপ্ত নয়। গণভোট সম্পর্কে মানুষকে অবগত করতে হলে একবারে তৃণমূল পর্যায়ে প্রচার চালাতে হবে। তাহলে সাধারণ মানুষ গণভোট সম্পর্কে জানতে পারবে।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলন নওগাঁর আহ্বায়ক আরমান হোসেন বলেন, ‘গণভোট সম্পর্কে সরকারিভাবে কিছু কিছু জায়গায় গাড়িতে করে যে প্রচার চালানো হচ্ছে সেটি কোথাও না দাঁড়ানোয় গণভোটের প্রচার হচ্ছে না মৃত ব্যক্তির ঘোষণা হচ্ছে সেটি বুঝতে পারছে না মানুষ। এতে গণভোটের যে প্রচার হওয়া উচিত, সেটি হচ্ছে না। আমাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উপজেলায় টিম করে হাট-বাজার থেকে শুরু করে মানুষের ঘর পর্যন্ত গণভোট সম্পর্কে জানাতে প্রচার কাজ শুরু হয়েছে।’
নওগাঁ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল মোত্তালিব বলেন, ‘গণভোট বিষয়ে তিনটি মন্ত্রনালয় সমন্বয়ে প্রচার শুরু হয়েছে। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও প্রচার চলছে। এখনো যেহেতু সময় আছে, আশা করি গণভোট সর্ম্পকে সবাই জানতে পারবে।’
নওগাঁয় ছয়টি আসনে মোট ভোটার ২৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৯২ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১১লাখ ৫৯ হাজার ৭৭১জন এবং মহিলা ভোটার ১১লাখ ৬৯হাজার ৮০০জন। হিজড়া ভোটার রয়েছে ২১জন।
ইখা