এইমাত্র
  • কুয়াকাটায় মাটিচাপা হত্যাকাণ্ডে আপন ভাইসহ দুজন গ্রেপ্তার
  • ‘আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে অর্থনীতিকে গণতান্ত্রিক করতে হবে’
  • বিশ্বজুড়ে ৭৯টি কনসার্টের ঘোষণা বিটিএসের
  • এনএসটি ফেলোশিপ পেলেন হাবিপ্রবির ১৫৩ জন
  • বরিশালে জাল টাকা ও তৈরির সরঞ্জামসহ গ্রেপ্তার ৪
  • প্রচারের অভাবে গণভোট নিয়ে অন্ধকারে নওগাঁর মানুষ
  • নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেন জিয়াউল আহসান
  • গুমের মামলায় জিয়াউল আহসানের বিচার শুরু
  • ‘দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবির নবীন সৈনিকদের জাগ্রত থাকতে হবে’
  • নড়াইলে ঐতিহ্যবাহী ‘পাগল চাঁদের মেলা’ উপলক্ষে মানুষের ঢল
  • আজ বুধবার, ১ মাঘ, ১৪৩২ | ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    ৩৭ বছরের মালিকানা থাকা জমিতে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করে দখলের অভিযোগ

    নাজমুস সাকিব মুন, পঞ্চগড় প্রতিনিধি প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম
    নাজমুস সাকিব মুন, পঞ্চগড় প্রতিনিধি প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম

    ৩৭ বছরের মালিকানা থাকা জমিতে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করে দখলের অভিযোগ

    নাজমুস সাকিব মুন, পঞ্চগড় প্রতিনিধি প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম

    পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ৩৭ বছর ধরে ভোগ দখলে থাকা এক একর জমিতে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করে জমি দখলে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে আব্দুল্লাহ মাসুদ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

    মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের সোনাপোতা মৌজার ধানপাড়া এলাকায় ১৬২ নম্বর এসএ খতিয়ানের ৪৭০ নম্বর দাগে ১ একর জমিতে চাষ দেওয়া হয়। সরেজমিন ধানপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায় আব্দুল্লাহ মাসুদ দলবল নিয়ে জমি চাষ দিচ্ছেন। জমিতে এই সময় প্রায় দেড় মাস বয়সী সরিষার চারা দেখতে পাওয়া যায়। সরিষার ক্ষেত চাষ দিয়ে ওই জমিতে ভুট্টার বীজ ফেলতে দেখা যায়।

    স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য ও দলিলাদি বিশ্লেষণে জানা যায়, অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ মাসুদের বাবা আবুল হোসেন ১৯৭৭ সালে তার তার দুই মেয়ে আঞ্জুয়ারা বেগম ও ফাতেমা বেগমের নামে জমিটি ক্রয় করেন। যার দলিল নম্বর ছিল ৩৩৭০। পরবর্তীতে ফাতেমা বেগম ১৯৮৯ সালে ৫৫০১ নম্বর দলিলে ৩৩ শতক, ১৯৯২ সালে ৩৯৫৫ নম্বর দলিলে ২০ শতক, ২০০৬ সালে ৩৩১৮ নম্বর দলিলে সাড়ে ৭ শতক জমি বিক্রি করেন। এর মধ্যে ৫৫০১ নম্বর দলিলে আবুল হোসেন নিজেই সনাক্তকারী ছিলেন।

    অপর মেয়ে আঞ্জুয়ারা বেগম ১৯৯৬ সালে ১৩৯ নম্বর দলিলে সাড়ে ৬০ শতক জমি মাহাবুবুর রহমান নামে এক ব্যক্তির নিকট বিক্রি করেন। পরবর্তীতে মাহাবুবুর রহমানের নিকট থেকে সম্পূর্ণ জমি আব্দুল কাদের গং এর নিকট বিক্রি করেন। যার দলিল নম্বর ছিল ৪০৯৮।

    ১৯৮৯-২০০৬ পর্যন্ত মোট চারটি দলিলের মাধ্যমে জমিটির মালিকানা প্রাপ্ত হয়ে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) পর্যন্ত ভোগদখলে ছিলেন আব্দুল কাদেরের স্ত্রী ও ছেলে আব্দুল মালেকসহ আব্দুল কাদেরের ভাই জহির মণ্ডল ও চাচাতো ভাই রফিকুল ইসলাম ও তাদের স্ত্রীরা।

    এই দিকে অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ মাসুদ দাবি করেন, ১৯৭৫ সালে ৬২১৯ নম্বর দলিলের প্রেক্ষিতে তার বাবা আবুল হোসেন জমিটি ক্রয় করেন রবিউল আলম নামে এক ব্যক্তির নিকট থেকে। তবে আবুল হোসেনের জীবদ্দশায় অভিযুক্ত মাসুদের দাবিকৃত ১৯৭৫ সালের ৬২১৯ নম্বর দলিলের বিষয়ে কোন কথা যেমন তিনি বলেননি তেমনি এই দলিলের কথা বলে জমি দখলেরও চেষ্টা করেননি।

    এইদিকে আব্দুল্লাহ মাসুদরা ১৯৭৫ সাল থেকে জমিটি তাদের ভোগদখলে ছিল এবং ২০২৩ সালে এক একর জমি বেদখল হয় জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট বেদখল হওয়া জমিটি পুনরায় বুঝিয়ে দিতে অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান উভয় পক্ষকে বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জমিতে যেতে নিষেধ করেন। মাঝখানে প্রায় তিন মাস জমিটি পতিত ছিল। এরপর উভয় পক্ষের দলিল ও অন্যান্য কাগজপত্র দেখে ইউএনও মৌখিক ভাবে আব্দুল কাদের ও সংশ্লিষ্টদের জমি চাষাবাদের অনুমতি দেন। অনুমতির প্রেক্ষিতে প্রায় দেড় মাস আগে আব্দুল মালেকরা জমিতে সরিষার বীজ রোপণ করেন।

    অভিযোগ উঠেছে, ২০০৮ সালে জমিটির ভূমি জরিপ সম্পন্ন হলে আব্দুল মালেকরা মাঠ খতিয়ান পান। সে সময় আব্দুল্লাহ মাসুদরা কোন আপত্তি করেননি।

    এদিকে অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ মাসুদ বলেন, ১৯৭৫ সালে আমার বাবা এই জমি ক্রয় করেন। ২০২৩ সালের আগে পর্যন্ত আমার দখলে ছিল। মাঝখানে তারা ইউএনও স্যারের কাছে অভিযোগ করে প্রায় এক বছরের মতো জমি পরিত্যক্ত ছিলো। এরপর লাঠিসোটা নিয়ে তারা জমি দখল করে সরিষা লাগায়। আদালতে তারা ১৪৪/১৪৫ ধারায় মামলা করেছিলো আমরা রায় পেয়েছি তাই দখলে এসেছি। 

    আদলতের রায়ে বলা হয়েছিল জমি নাকি আপনার দখলে তাহলে আজকে আব্দুল মালেকের চাষ করা সরিষা নষ্ট করে নতুন করে কেন জমি দখল করতে হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে আব্দুল্লাহ মাসুদ বলেন, এক দেড় মাস আগে সরিষা লাগিয়েছিল মালেকরা। কিন্তু সরিষা তেমন হয়নি। ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর আদালত থেকে আমাদের দখল দেখিয়ে রায় দেয়। আদলতের কাগজপত্র আমাদের হাতে আসতে দেরী হয় তাই আমরা ১৩ জানুয়ারি জমিতে হালচাষ দিয়ে দখল নেই।

    এইদিকে আব্দুল্লাহ মাসুদদের জমি ও বাদামের আবাদ দখলের চেষ্টার কারণে গত বছর ২৭ মে আব্দুল মালেক আদালতে মামলা দায়ের করেন। এরপর আদালতের নির্দেশের প্রেক্ষিতে দেবীডুবা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ ভূমি সহকারী কর্মকর্তা দিপালী রানী ৯ সেপ্টেম্বর সরেজমিন তদন্ত করে ২৫ মে থেকে জমিটি পতিত অবস্থায় আছে বলে প্রতিবেদন দাখিল করেন। যদিও সে সময় জমিতে বাদামের ক্ষেত ছিল বলে ভুক্তভোগীসহ একাধিক সূত্র নিশ্চিত করে। ভূমি কর্মকর্তার প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত আব্দুল মালেকের আবেদনটি খারিজ করে দেয়।

    এই বিষয়ে উপ ভূমি সহকারী কর্মকর্তা দিপালী রানী বলেন, আমি স্বীকার করছি, এখানে আমার কিছুটা ভুল হয়েছে। ৯ সেপ্টেম্বর তদন্তে গিয়ে আমি জমিটি পরিত্যক্ত অবস্থায় দেখতে পাই। পরে জানতে পারি, ইউএনও স্যারের মৌখিক নির্দেশে তখন জমিটি পরিত্যক্ত রাখা হয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে জমিটি প্রথম পক্ষ আব্দুল মালেকের দখলেই ছিল এবং সেখানে তিনি বাদাম চাষ করেছিলেন। তবে বাদাম চাষের সময়কাল সম্পর্কে ধারণা না থাকায় আমি মনে করেছিলাম, মামলার সময় অর্থাৎ মে মাস থেকেই জমিটি পরিত্যক্ত ছিল। এই অংশটিতেই আমার ভুল হয়েছে।

    এদিকে নালিশী জমির বাইরেও নতুন করে সাড়ে ১৬ শতাংশ জমি ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করে জবরদখল করার অভিযোগ উঠেছে আব্দুল্লাহ মাসুদের বিরুদ্ধে।

    এবিষয়ে ভুক্তভোগী আব্দুল মালেকের চাচা আমির হোসেন বলেন, ১৯৭৭ সালের দলিলমূলে জমি ক্রয় করে আমরা ২০২৬ সালের ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত ভোগদখল করে আসছি। ১৩ জানুয়ারি সকালে নালিশি জমির বাইরেও আলাদাভাবে ক্রয় করা সাড়ে ১৬ শতাংশ জমি জবর দখল করেছে আব্দুল্লাহ মাসুদ।

    সার্বিক বিষয়ে ভুক্তভোগী আব্দুল মালেক বলেন, ১৯৭৭ সালের দলিল মূলে পর্যায়ক্রমে জমিটি কেনা হয়। আমার বাবার জীবদ্দশায় এই জমি নিয়ে কোন বিরোধ ছিল না। ২০২৪ সালের শেষে হঠাৎ করে ভুয়া দলিল দেখিয়ে জমিটি দাবি করে বসেন আব্দুল্লাহ মাসুদ। যার প্রেক্ষিতে আমি ১৪৪ ও ১৪৫ ধারায় আদালতে মামলা দায়ের করি। ভূমি কর্মকর্তার ভুলের কারণে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেয়। তবে আদালত জমিটি দখলে নিতে মাসুদের পক্ষে কোনরূপ রায় প্রদান করেননি। এরপরও আজ আমার সরিষার ক্ষেতে চাষ দিয়ে জমিটি দখলে নেয় মাসুদ।

    পিএম

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    Loading…