গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সতর্কবার্তা দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর নেতৃতাধীন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী রোনাল্ড লেসকুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ দৈনিক ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লেসকুরে বলেন, অতি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারিমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন তিনি। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে লেসকুরে বলেন, “আমি তাকে (স্কট বেসেন্ট) বলেছি যে যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ড দখল করতে কোনো প্রকার তৎপরতা কিংবা পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তাকে ‘সীমা অতিক্রম’ করা হিসেবে বিবেচনা করবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, তা গুরুতর সংকটের মধ্যে পড়বে।”
“আমি তাকে বলেছি যে গ্রিনল্যান্ড একটি সার্বভৌম দেশ এবং ইইউ-এর অংশ। এটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ঝামেলায় না জড়ালেই ভালো করবে। আমি আরও বলেছি, যদি কোনো কিছুর পরোয়া না করে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে হামলা করেই বসে, সেক্ষেত্রে পৃথিবীর চেহারা সম্পূর্ন বদলে যাবে এবং নতুন এক পৃথিবীর অভ্যুদ্যয় ঘটবে।”
প্রসঙ্গত, বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডের আয়তন ২১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬ বর্গকিলোমিটার, জনসংখ্যা মাত্র ৫৬ হাজার ৫৮৩ জন। এই জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশই ইনুইট জাতিগোষ্ঠীভুক্ত। গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান উত্তর আমেরিকা অঞ্চলে হলেও এই দ্বীপটি ডেনমার্কের অধীন একটি স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রদেশ। এ দ্বীপের বাসিন্দারাও ডেনমার্ক এবং ইউরোপের দেশগুলোর জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নাগরিক।
আর্কটিক এবং আটলান্টিক সাগরকে পৃথককারী এই দ্বীপটির নাম গ্রিনল্যান্ড হলেও উত্তর মেরুর কাছাকাছি অবস্থান হওয়ার কারণে বছরের বড় সময়জুড়ে তুষারাচ্ছাদিত থাকে এ ভূখণ্ড। দ্বীপটির ভূপৃষ্ঠের গভীরে জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন খনিজ পদার্থ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভূতত্ত্ববিদরা।
২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের দখলে আনার ইচ্ছা প্রকাশ করে আসছেন ট্রাম্প। এ বিষয়ে সর্বশেষ মন্তব্য তিনি করেছেন গত ১০ জানুয়ারি।
এমআর-২