মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) যুগ্ম পরিচালক মিনহাজুল ইসলামের ঢাকার পল্লবীর বাউনিয়ায় অবস্থিত নিজ বাসা থেকে তার স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার দিবাগত রাতে এ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—তা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া এমআরএর প্রভাবশালী কর্মকর্তা নির্বাহী পরিচালক ইয়াকুব হোসেনের বিরুদ্ধে মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর সময়ের কণ্ঠস্বরকে মররদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ব্যাপারে নিহতের মা বাদি হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ এ ঘটনায় একজনকে আটক করলেও তার নাম-পরিচয় জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন ওসি আলমগীর।
জানা গেছে, গত সোমবার রাতে রাজধানীর পল্লবী এলাকার বাউনিয়ায় অবস্থিত নিজ বাসা থেকে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত গৃহবধূ মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) যুগ্ম পরিচালক মিনহাজুল ইসলামের স্ত্রী। এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—তা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ তার স্বামী মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) যুগ্ম পরিচালক মিনহাজুল ইসলামের দিকে।
নিহত গৃহবধূর মা ও দুই বোন বগুড়ায় তাদের নিজ বাড়িতে থাকেন। তার বাবা বিদেশে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, মিনহাজুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায়। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে কথা বলতে প্রথমে রাজি হননি পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর। পরবর্তীতে মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও নিহত ও আটক ব্যাক্তির নাম-পরিচয় জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, “প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। তবে সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে।”
তিনি আরও জানান, নিহতের বয়স ২৭। তার মা মরদেহ উদ্ধারের পরদিন থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে, তিনি নিহতের নাম-পরিচয় জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি ‘থানায় এসে তথ্য সংগ্রহ’ করতে এ প্রতিবেদককে বলেন।
এদিকে, অভিযোগ উঠেছে- মামলাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছেন এমআরএর প্রভাবশালী কর্মকর্তা নির্বাহী পরিচালক ইয়াকুব হোসেন। নিহতের পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ, এমআরএ’র নির্বাহী পরিচালক ইয়াকুব হোসেন তার পরিচিত পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন।
সময়ের কণ্ঠস্বরকে অভিযোগ অস্বিকার করে ইয়াকুব হোসেন বলেন, “আমি গভীর রাতে যাইনি, থানায় গিয়েছিলাম সকালে। আমার সঙ্গে আমাদের একজন কলিগ ছিলেন। সেখানে কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগের ঘটনা ঘটেনি। আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে।”
ইখা