মুন্সীগঞ্জ-৩ আসন (সদর–গজারিয়া) বিএনপির মনোনয়ন ও দলীয় সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তৃণমূল পর্যায়ে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তৃণমূলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের মতামত উপেক্ষা করে অন্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া এবং জননেতা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি জনপ্রিয় নেতা মজিবুর রহমানকে বহিষ্কারের প্রতিবাদে গজারিয়া উপজেলায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা গণহারে পদত্যাগ করেছেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, সদর–গজারিয়া ও মিরকাদিম এলাকার তৃণমূল পর্যায়ের ৭৮ জন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে ৭৪ জনই জননেতা মহিউদ্দিনের পক্ষে মতামত দেন। তবে সেই মতামত উপেক্ষা করে অন্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে একের পর এক নেতাকর্মী দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন।
এর অংশ হিসেবে শুক্রবার (৩০ই জানুয়ারি) সকাল ১১টায় গজারিয়া উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়ন বিএনপির অস্থায়ী পার্টি অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে অন্তত ২২ জন নেতা তাদের পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে পদত্যাগ করেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রহমান শফিক।
পদত্যাগকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন, গজারিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আঃ রহমান সফিক,উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বোরহান উদ্দিন ভূঁইয়া,ইঞ্জিনিয়ার মুকবুল আহমেদ রতন,উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ওহিদুজ্জামান ওহিদ, উপজেলা মৎসজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল হোসেন সহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের মোট ২২ জন নেতাকর্মী।
পদত্যাগকারী নেতারা অভিযোগ করে বলেন, তৃণমূলের মতামতকে উপেক্ষা করে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে দলীয় ঐক্য ও সাংগঠনিক শক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারা আরও বলেন, জনপ্রিয় ও পরীক্ষিত নেতাদের বহিষ্কার দলকে দুর্বল করার শামিল, যা মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের হতাশ করে তুলেছে।
এ ঘটনায় গজারিয়া উপজেলায় বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূলের এই ক্ষোভ ও গণপদত্যাগ আগামী দিনের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে।
এসআর