এইমাত্র
  • মুন্সিগঞ্জে পারিবারিক বিরোধের জেরে মারধরে বৃদ্ধের মৃত্যু
  • নারায়ণগঞ্জ সওজ অফিসে নির্ধারিত সময়েও অনুপস্থিত কর্মকর্তারা
  • সিদ্ধিরগঞ্জ ভূমি অফিসের ৩ কর্মকর্তাকে বদলী
  • বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে ষড়যন্ত্র করেছেন বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী: তাহের
  • ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের
  • খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় অনুষ্ঠান স্থগিত
  • যুদ্ধে ৫শ মার্কিন সেনা নিহত, দাবি ইরানের
  • সব ইরানি ড্রোন ঠেকানো সম্ভব না, মার্কিন কর্মকর্তার সরল স্বীকারোক্তি
  • নড়াইলে সড়ক দুর্ঘটনায় সাবেক বিজিবি সদস্য নিহত
  • হরমুজ প্রণালীতে ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়েছেন: জাতিসংঘ
  • আজ বৃহস্পতিবার, ২১ ফাল্গুন, ১৪৩২ | ৫ মার্চ, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    স্বামীর সঞ্চয় তুলতে ৪ বছর ধরে জিপিওর দ্বারে স্ত্রী, উঠছে জালিয়াতির অভিযোগ

    গাজী গোফরান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (চট্টগ্রাম) প্রকাশ: ৫ মার্চ ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম
    গাজী গোফরান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (চট্টগ্রাম) প্রকাশ: ৫ মার্চ ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম

    স্বামীর সঞ্চয় তুলতে ৪ বছর ধরে জিপিওর দ্বারে স্ত্রী, উঠছে জালিয়াতির অভিযোগ

    গাজী গোফরান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (চট্টগ্রাম) প্রকাশ: ৫ মার্চ ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম

    মৃত স্বামীর জমানো টাকা তুলতে গিয়ে চট্টগ্রাম জিপিওতে (জেনারেল পোস্ট অফিস) চরম হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন এক নারী। আমানতের শতভাগ নমিনি হওয়া সত্ত্বেও কর্মকর্তাদের অসহযোগিতায় গত ৪ বছর ধরে জিপিওর দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন নগরীর আসকার দীঘির পাড় এলাকার বাসিন্দা, মৃত সৈয়দ সিরাজুল হকের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম।

    জানা যায়, চট্টগ্রাম জিপিওতে সৈয়দ সিরাজুল হকের দুটি হিসাবে মোট ৩৩ লাখ ৫৭ হাজার ৬০০ টাকা গচ্ছিত রয়েছে। এর মধ্যে মেয়াদি হিসাবে (নম্বর এফডি-১১৬৫৬৯) ৩০ লাখ এবং সাধারণ হিসাবে (নম্বর এসবি-৬৬১৭৬২) ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৬০০ টাকা রয়েছে। ২০২২ সালের ১৫ জুলাই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। স্বামীর মৃত্যুর পর মনোয়ারা বেগম বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। জিপিও কর্মকর্তাদের অসহযোগিতায় চিকিৎসার অভাবে থাকা সত্ত্বেও স্বামীর রেখে যাওয়া টাকা তিনি তুলতে পারছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

    গত ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে চট্টগ্রাম জিপিওর পোস্টমাস্টার (সঞ্চয়) মো. একরামুল হক মরণোত্তর দাবি নিষ্পত্তির জন্য মনোয়ারা বেগমকে একটি চিঠি দেন। সেখানে মূল পাসবই দুটি নিয়ে যোগাযোগ করতে বলা হয়। এর জবাবে গত ৫ ফেব্রুয়ারি মনোয়ারা বেগম পোস্টমাস্টারকে লিখিতভাবে জানান, তার স্বামীর প্রথম পক্ষের ওয়ারিশরা পাসবই দুটি লুকিয়ে রেখেছে। একাধিকবার চাওয়ার পরও তারা তা হস্তান্তর করেনি। এ বিষয়ে নিরুপায় হয়ে ২০২২ সালের ১৯ জুলাই কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি।

    মনোয়ারা বেগমের অভিযোগ, প্রথম পক্ষের ওয়ারিশরা জালিয়াতির মাধ্যমে এবং প্রকৃত নমিনির তথ্য গোপন করে আদালত থেকে একটি সাকসেশন সনদ সংগ্রহ করেছে। মামলার নথিতে তিনি বা তার ছেলে কোনো স্বাক্ষর করেননি বলে দাবি করে এই সনদকে সম্পূর্ণ জাল ও বেআইনি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    মনোয়ারা বেগমের একমাত্র ছেলে সৈয়দ শাহজাহান সিরাজ বলেন, জিপিওর গাফিলতির কারণেই তারা পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিষয়টি আগ্রাবাদ সার্কেল অফিসে পাঠানো হলে সেখান থেকে নমিনি ফরম জমা দিতে বলা হয়। কিন্তু জিপিও এখন সেই নমিনি ফরম খুঁজে পাচ্ছে না বলে অজুহাত দিচ্ছে। গ্রাহকের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যদি জিপিওতে না থাকে, তবে সঞ্চয়ের নিরাপত্তা কোথায়, এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

    এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জিপিওর পোস্টমাস্টার (সঞ্চয়) মো. একরামুল হক সময়ের কণ্ঠস্বর-কে জানান, মূল পাসবই সংগ্রহ করতে না পারায় এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। তাছাড়া প্রথম পক্ষের ওয়ারিশরা আদালত থেকে সাকসেশন সনদ নিয়েছে।

    শতভাগ নমিনি থাকার পরও সাকসেশন সনদ কীভাবে গ্রহণযোগ্য হয় এবং তা জাল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মো. একরামুল হক বলেন, এটি আদালতের বিষয়। মনোয়ারা বেগমকে আদালতেই প্রমাণ করতে হবে যে তার সই জাল করা হয়েছে। জিপিও আদালতের বাইরে গিয়ে কিছু করতে পারবে না।

    পাসবই হারানোর জিডির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মো. একরামুল হক উল্টো প্রশ্ন রাখেন, পাসবই যে প্রথম স্ত্রীর ওয়ারিশদের কাছে আছে তা তারা স্বীকার করেছে, তাহলে মনোয়ারা বেগম সেটি নিতে পারছেন না কেন?

    সার্বিক বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম জিপিওর ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল মো. আবদুল্লাহকে একাধিকবার কল দেওয়া এবং হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।


    এসআর

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    Loading…