এইমাত্র
  • দেশ ছেড়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী
  • বঙ্গভবন নয়, এবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় হবে মন্ত্রিসভার শপথ
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে এমপি, বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ
  • মন্ত্রিপরিষদ সচিব হলেন এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া
  • ফলাফল বাতিল ও পুনর্নির্বাচন চান বিএনপি সমর্থিত ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী
  • মার্চেই শুরু হচ্ছে ইয়ুথ ক্রিকেট লিগ
  • সাইবেরিয়ায় তেলের বড় খনির সন্ধান পেয়েছে রাশিয়া
  • ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: মির্জা ফখরুল
  • তারেক রহমানের শপথে শেহবাজ শরিফকে আমন্ত্রণের পরিকল্পনা
  • ডা. শফিকুর রহমান ও নাহিদ ইসলামের বাসায় যাবেন তারেক রহমান
  • আজ রবিবার, ১ ফাল্গুন, ১৪৩২ | ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    ওদের ঘর নেই, রাত কাটে খোলা আকাশের নিচে

    মাহাবুবুর রহমান মিঠুন, ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫০ পিএম
    মাহাবুবুর রহমান মিঠুন, ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫০ পিএম

    ওদের ঘর নেই, রাত কাটে খোলা আকাশের নিচে

    মাহাবুবুর রহমান মিঠুন, ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫০ পিএম

    ঘড়ির কাঁটায় রাত একটা ছুঁইছুঁই। কনকনে শীতে কোলাহলপূর্ণ কুয়াশাচ্ছন্ন পুরো শহর যখন নিস্তব্ধ, ঠিক তখনই এক শ্রেণির মানুষের শুরু হয় সামান্য উষ্ণতা খোঁজার নিরব যুদ্ধ। উন্মুক্ত স্থানে শুয়ে থাকা ঘুম ঘুম চোখ দুটো দেখে বোঝাই যাচ্ছে—তাদের জন্য শীত কোনো ঋতু নয়, যেন এক নিষ্ঠুর পরীক্ষা। একমাত্র সম্বল একটি ছেঁড়া কম্বল আর পলিথিন। পলিথিন পেঁচিয়ে গুটিসুটি হয়ে শুয়ে থাকা মানুষগুলোকে দেখে দূর থেকে মনে হয় একেকটি ময়লার স্তূপ; কিন্তু না, ওগুলোর ভেতরেই লুকিয়ে আছে একেকজন জীবন্ত মানুষ। এতক্ষণ বলছিলাম স্টেশনের আনাচে-কানাচে ও সড়কের পরিত্যক্ত স্থানে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকা ভাসমান ও ছিন্নমূল মানুষদের কথা, যাদের ঘর নেই এবং তীব্র শীতেও রাত কাটে খোলা আকাশের নিচে।


    ঈশ্বরদী পৌর শহরের রেলগেট থেকে শুরু করে রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড ও ফুটপাত—সব জায়গাতেই শীতজুড়ে কেবল অসহায় মানুষের দীর্ঘশ্বাস। তাদের জীবনের গল্প খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, কেউ পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন, কেউবা জীবনের কঠিন ধাক্কায় পথে নেমে আসা মানুষ। সমাজের মূল স্রোত থেকে ছিটকে পড়া এসব মানুষের জন্য শীতকাল হয়ে ওঠে সবচেয়ে কঠিন সময়, যখন বেঁচে থাকাই হয়ে পড়ে বড় চ্যালেঞ্জ।


    সরেজমিনে শহরের ফুটপাত ও স্টেশন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এক বৃদ্ধ খালি মেঝেতে পলিথিন পেঁচিয়ে শুয়ে আছেন। পরিত্যক্ত ইয়ার্ডের ওপর কুয়াশাচ্ছন্ন খোলা আকাশের নিচে ছিন্নমূল শিশু-কিশোররা সারি ধরে শুয়ে ছেঁড়া কম্বলে উষ্ণতা খোঁজার চেষ্টা করছে। কেউ পলিথিন, আবার কেউ বস্তা কিংবা কার্টন জোগাড় করে শরীর ঢাকার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।


    এ সময় পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিঃস্ব হওয়া মো. সুমন নামে এক যুবকের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, ছোটবেলায় বাবা-মাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিলে নানির বাড়িতে ঠাঁই হয় তার। মা মারা যাওয়ার পর মামারা সব জমিজমা বিক্রি করে তাকে বের করে দেন। সড়ক দুর্ঘটনায় এক পা অচল হয়ে যাওয়ায় জীবনে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার; উপায় না পেয়ে স্টেশনকেই ঠিকানা বানিয়েছেন তিনি। সুমন বলেন, "তীব্র শীতে ছেঁড়া কম্বলে যেন আর রাত পার হতে চায় না, খুব কষ্ট হয়।"


    স্টেশনের বারান্দায় পুরনো ওড়না জড়িয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করছিলেন অসহায় মোছা. আছিয়া খাতুন। কিছুটা আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, "বাবা-মা কেউ নেই। বেঁচে থাকার তাগিদে ঠিকানা বানিয়েছি স্টেশন চত্বর। গরম কাপড় নেই বলে শীতে ঘুমাতে পারছি না। মাঝে মধ্যে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা লোকজন এসে তাড়িয়ে দেয়। শীত আমাদের জন্য কেবলই কষ্টের নাম।"


    স্টেশন ইয়ার্ডে খোলা আকাশের নিচে কম্বল গায়ে দিয়ে বসে ছিল শিশু মারিয়া ও রেশমী। জীবনের মানে বোঝার আগেই ভাগ্যের নির্মমতায় তাদের ঠিকানা হয়েছে ফুটপাত। কেন এখানে থাকো আর কতটুকু কষ্ট হয়—এমন প্রশ্নে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থেকে তারা বলে, "আমাদের বাবা-মা নেই, তাই আমরা তিন ভাই-বোন এখানেই থাকি। সারাদিন ট্রেনে ভিক্ষা করে যা পাই তা দিয়েই ভাত খাই। শীতে প্রচুর কষ্ট হয়, কিন্তু কিছু করার নেই।"


    ঈশ্বরদীর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ঈশ্বরদীয়ান’-এর পরিচালক শাহরিয়ার অমিত বলেন, "জংশন স্টেশনটি অনেক পুরনো হওয়ায় এখানে দীর্ঘ সময় ধরে এসব ছিন্নমূল মানুষের বসবাস। কনকনে শীতে যেখানে আমরা দামি লেপ-কম্বলেও স্বস্তি পাই না, সেখানে তারা খোলা আকাশের নিচে রাত কাটায়—যা অত্যন্ত অমানবিক। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে তাদের এই কষ্ট লাঘব হতে পারে। তবেই আমরা একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে পারব।"


    এনআই

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    Loading…