নান্দাইলে বিধবা ভাতাভোগী এক বৃদ্ধাকে জীবিত থাকা সত্ত্বেও সরকারি নথিতে মৃত দেখিয়ে তার নাম কর্তন করে অন্য একজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ভুক্তভোগী ওই নারী।
ভুক্তভোগীর নাম মোছা. মালেকা বেগম (৭০)। তিনি নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের রায়পাশা গ্রামের মৃত চান মিয়ার স্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিয়মিত বিধবা ভাতা পেয়ে আসছিলেন। তবে গত দুই কিস্তি অর্থাৎ ছয় মাস ধরে তার মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে ভাতার টাকা জমা হচ্ছিল না।
ভাতা বন্ধের কারণ জানতে মালেকা বেগম উপজেলা সদরের সমাজসেবা কার্যালয়ে গেলে তিনি জানতে পারেন, সরকারি নথিতে তাকে মৃত দেখানো হয়েছে এবং তার স্থলে অন্য একজনকে ভাতাভোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ তথ্য শুনে হতবাক হয়ে পড়েন তিনি। সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মীদের উদ্দেশে তার প্রশ্ন ছিল, ‘আমি আবার মরলাম কবে?’
মালেকা বেগম বলেন, ‘তিন মাস পরপর মোবাইলে ভাতার টাকা পেতাম। সেই টাকা তুলে কোনোমতে দিন চলত। এখন ভাতা বন্ধ থাকায় খুব কষ্টে আছি। আমি জীবিত থাকা সত্ত্বেও কে বা কারা আমাকে মৃত দেখাল এটাই জানতে চাই।’
সমাজসেবা কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, কোনো ভাতাভোগী মারা গেলে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যের প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে অপেক্ষমান তালিকা থেকে নতুন করে অন্য ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মালেকা বেগমের ক্ষেত্রেও এ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
সূত্র আরও জানায়, স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রুহুল আমীন মালেকা বেগমের মৃত্যু সনদসহ একটি প্রত্যয়নপত্র জমা দেন। তার প্রস্তাবের ভিত্তিতে একই গ্রামের মো. আবদুল হাই (৭০) নামে একজনকে ভাতাভোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে এ প্রক্রিয়ায় যথাযথ তদন্ত করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মো. রুহুল আমীন বলেন, ‘ঘটনাটি ভুলবশত হয়েছে। বিষয়টি সংশোধনের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
নান্দাইল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মিজানুল ইসলাম আকন্দ বলেন, ‘মালেকা বেগম যাতে দ্রুত পুনরায় ভাতার অর্থ পেতে পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’
এসআর