সকালের কুয়াশা কাটতেই ভূঞাপুরের একটি কেন্দ্রের সামনে দীর্ঘ লাইন। তরুণদের মুখে কৌতূহল, বয়স্কদের চোখে দায়িত্ববোধ। কেউ প্রথমবার ভোট দিতে এসেছেন, কেউ বহু নির্বাচনের সাক্ষী। পরিবেশ শান্ত। সবকিছুই স্বাভাবিক শুধু একটি জায়গায় অস্পষ্টতা।
বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে সাধারণ ও তরুণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ‘গণভোট’ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেই অনেকেরই। কী বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে এই প্রশ্নের জবাবে অনেকে থেমে যাচ্ছেন, কেউ বা হালকা হাসি দিয়ে বলছেন, “ঠিক জানি না, ভোট দিতে বলা হয়েছে তাই দিচ্ছি।”
একজন কলেজপড়ুয়া তরুণ রফিকুল ইসলাম বলেন, “গুরুত্বপূর্ণ কিছু একটা এতটুকু জানি। কিন্তু নির্দিষ্ট বিষয়টা স্পষ্ট না।”
আরেকজন নারী ভোটার জানান, “মাইকিং হয়েছে, সবাই আসছে, তাই আমরাও এলাম। কিন্তু বিস্তারিত কেউ বুঝিয়ে বলেনি।”
উপজেলার নিকরাইল রানী দিনমনি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সরেজমিন পরিদর্শন করে বেশ কয়েকজন ভোটারের সাথে কথা বলে জানাযায়, গনভোট সম্পর্কে কোন ব্রিফিং বা স্পষ্ট কোন বার্তা তারা পায়নি। যার ফলে পরিষ্কার করে কোন উত্তর তারা দিতে পারে নি।
প্রথমবার ভোট দিতে আসা কয়েকজন তরুণের মধ্যেও একই চিত্র। তারা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু আলোচনা দেখেছেন, কিন্তু সঠিক তথ্য বা ব্যাখ্যা পাননি।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, গণভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ব্যাপক প্রচারণা ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা জরুরি ছিল। মাঠপর্যায়ে সেই প্রস্তুতির ঘাটতি থাকায় ভোটারদের একটি অংশ ‘আন্দাজের’ ওপর নির্ভর করছেন।
তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, বিধি অনুযায়ী প্রচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভোট শুধু অংশগ্রহণের বিষয় নয় এটি সচেতন সিদ্ধান্তের প্রতিফলন। ভূঞাপুরের কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো, কিন্তু দিনের শেষে একটি প্রশ্ন থেকেই যায়
মানুষ কি সত্যিই জানে, তারা কোন সিদ্ধান্তে অংশ নিচ্ছে?
এসআর