কানাডার পশ্চিমাঞ্চলে সংঘটিত স্কুলে ভয়াবহ গুলির ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীকে শনাক্ত করেছে দেশটির পুলিশ। তদন্তকারীরা বলছেন, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগা ওই তরুণী স্কুলে হামলার আগে নিজের মা ও সৎভাইকে হত্যা করেন। তবে কানাডার ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ এই গণহত্যার পেছনে এখনও কোনো স্পষ্ট উদ্দেশ্য জানাতে পারেনি পুলিশ। খবর সিএনএনের
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) জানিয়েছে, সন্দেহভাজনের নাম জেসি ভ্যান রুটসেলার। মঙ্গলবার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার প্রত্যন্ত জনপদ টাম্বলার রিজে বন্দুক হামলা চালানোর পর তিনি আত্মহত্যা করেন। প্রাথমিকভাবে মৃতের সংখ্যা ১০ বলা হলেও পরে তা সংশোধন করে পুলিশ জানায়, নিহতের সংখ্যা ৯ জন, এর মধ্যে হামলাকারী নিজেও অন্তর্ভুক্ত।
পুলিশ জানায়, জন্মসূত্রে পুরুষ হলেও ভ্যান রুটসেলার গত ছয় বছর ধরে নিজেকে নারী হিসেবে পরিচয় দিতেন। হামলার আগে তিনি নিজের বাড়িতে ৩৯ বছর বয়সী মা এবং ১১ বছর বয়সী তার সৎভাইকে হত্যা করেন। এরপর তিনি নিজের সাবেক স্কুলে গিয়ে হামলা চালান। সেখানে তিনি ৩৯ বছর বয়সী এক নারী শিক্ষক, তিনজন ১২ বছর বয়সী ছাত্রী এবং ১২ ও ১৩ বছর বয়সী দুইজন ছাত্রকে গুলি করে হত্যা করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি লং গান ও একটি হ্যান্ডগান উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এই ঘটনায় আহত হন বহু মানুষ। তাদের মধ্যে দুজন এখনো গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আহতদের একজন ১২ বছর বয়সী শিশু মায়া। সে মাথা ও গলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে বলে তার মা সিয়া এডমন্ডস ফেসবুক পোস্টে জানান।
পুলিশ জানায়, প্রথম ফোন পাওয়ার মাত্র দুই মিনিটের মধ্যেই কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে তারা সক্রিয় গুলির মুখে পড়েন, তাদের দিকেও গুলি ছোড়া হয়। পরে তারা ভ্যান রুটসেলারকে স্কুলের ভেতরে আত্মহত্যা করা অবস্থায় পান। পুলিশের তথ্যমতে, তিনি ওই স্কুলেরই সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন। চার বছর আগে পড়াশোনা ছেড়ে দেন।
ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় আরসিএমপির কমান্ডার ডেপুটি কমিশনার ডোয়াইন ম্যাকডোনাল্ড জানান, ভ্যান রুটসেলারকে একাধিকবার প্রাদেশিক মানসিক স্বাস্থ্য আইনের আওতায় এনে মূল্যায়ন করা হয়েছিল। গত কয়েক বছরে একাধিকবার পুলিশ তাদের বাসায় যায়, কাজ করা হয় সন্দেহভাজনের মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও।
যুক্তরাষ্ট্রের বিপরীতে কানাডায় স্কুলে গুলির ঘটনা তেমন একটা দেখা যায় না। এ কারণে এমন ঘটনা শুধু কানাডা নয়, বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা এই শোক কাটিয়ে উঠব। আমরা এ থেকে শিক্ষা নেব।’
তিনি ইউরোপ সফর স্থগিত করে আগামী সাত দিনের জন্য সব সরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। পরে পার্লামেন্টে এক মিনিট নীরবতাও পালন করা হয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই হত্যাকাণ্ড পুরো দেশকে শোক ও স্তব্ধতার মধ্যে ফেলেছে।
এবি