রাজশাহীর বাঘা উপজেলাতে তুলা চাষে দেখা দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা। আমসহ অন্যান্য প্রচলিত ফসলে আশানুরূপ লাভ না পাওয়ায় অনেক কৃষক এখন বিকল্প আয়ের উৎস হিসেবে ঝুঁকছেন তুলা চাষের দিকে। ইতোমধ্যে উপজেলায় প্রায় ২৭ হেক্টর জমিতে তুলার আবাদ হয়েছে বলে জানা গেছে।
উপজেলার আড়ানী এলাকার গোচর গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান জানান, তিনি প্রায় ৯-১০ বছর ধরে তুলা চাষ করছেন। শুরুতে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও বর্তমানে ভালো ফলন ও লাভ পাচ্ছেন।
তিনি বলেন, তুলার সঙ্গে সাথী ফসল চাষ করে অতিরিক্ত আয় সম্ভব। অন্যান্য ফসলের তুলনায় খরচ কম হলেও নিয়মিত পরিচর্যা জরুরি। বাজারে তুলার চাহিদা ভালো থাকলেও ন্যায্য দাম পেলে আরও লাভবান হওয়া যেত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তুলা চাষ সম্প্রসারণে কাজ করছে তুলা উন্নয়ন বোর্ড। আড়ানী শাখার কটন ইউনিট অফিসার মো. হোসেন আলী জানান, এ অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া তুলা চাষের জন্য উপযোগী। কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তালিকাভুক্ত চাষিদের সরকারি সহায়তাও প্রদান করা হয়। চলতি মৌসুমে ভালো ফলন হলে এলাকায় তুলা চাষ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা কৃষি অফিসার মো. শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, তুলা একটি সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ ও সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া সম্ভব। তুলা চাষ বৃদ্ধি পেলে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কৃষকদের আয় বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কৃষকদের মতে, বাজারে তুলার ব্যাপক চাহিদা থাকায় এটি লাভজনক ফসল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে বাজারমূল্য কিছুটা বৃদ্ধি পেলে লাভের পরিমাণ আরও বাড়বে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিকল্পিত উদ্যোগ ও সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকলে রাজশাহীর বাঘায় তুলা চাষ হয়ে উঠতে পারে কৃষকদের জন্য নতুন আশার আলো।
এসআর