ঝিনাইদহ সরকারি বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী আবাসিক বিদ্যালয়ে নিবাসী শিক্ষার্থীদের মাসিক খাদ্য মেন্যু ও বরাদ্দের হিসাব নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
সরকার নির্ধারিত মেন্যু ও দৈনিক বরাদ্দ থাকলেও প্রকৃত শিক্ষার্থীর তুলনায় বেশি সংখ্যা দেখিয়ে বিল-ভাউচার প্রস্তুতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কাগজে-কলমে চাল, ডাল, তেল, সবজি, ডিম, মৌসুমি ফল ও মাছ-মাংসের পূর্ণাঙ্গ তালিকা থাকলেও বাস্তবে সরবরাহে ঘাটতির অভিযোগ রয়েছে। এতে বরাদ্দের অর্থ ও প্রকৃত ব্যয়ের মধ্যে গরমিল তৈরি হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সরেজমিনে গিয়ে প্রধান শিক্ষক মো. হাসানুজ্জামানকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বিদ্যালয় সংক্রান্ত তথ্য জানতে জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, তিনি জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত থেকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রধান শিক্ষক স্বীকার করেন, প্রকৃত শিক্ষার্থীর চেয়ে বেশি সংখ্যা দেখিয়ে বিল-ভাউচার প্রস্তুত হয়েছে।
তার দাবি, বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট থাকায় অতিরিক্ত বিলের অর্থ দিয়ে বাইরে থেকে দুইজন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে বেতন দেওয়া হচ্ছে।
দুজন শিক্ষকের নাম, শিল্পী ও নিম্মি, তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া কিভাবে সম্পূর্ণ হয়েছে, কেন তাদের বেতন প্রতিবন্ধীদের খাবারের টাকা থেকে দেওয়া হচ্ছে এমন প্রশ্ন করলে তিনি তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন,
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঝিনাইদহ সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল কাদের খাবারের টাকা থেকে শিক্ষকদের বেতন দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন, তিনি বলেন “প্রতিষ্ঠান সচল রাখতে কিছু বিষয় সমন্বয় করতেই হয়। দুজন শিক্ষকের বেতন দিতে অতিরিক্ত বিল প্রস্তুত করা হয়। বিষয়টি আমাদের নলেজে আছে। সমন্বয় না করলে প্রতিষ্ঠান চালানো কঠিন।
এ বিষয়টি ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক, মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাসউদ কে জানালে তিনি তাৎক্ষণিক সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তার অধীনস্থ একজন কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
এসআর