কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে গভীর রাতে বসতঘরে আগুনে দগ্ধ হয়ে তৌহিদুল ইসলাম নামে (০৮) বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া দুটি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে- এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার মধ্যরাতে অষ্টগ্রাম উপজেলার দেওঘর ইউনিয়নের আলিনগর গ্রামে দু'টি বসতঘরে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উপজেলাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
নিহত শিশু তৌহিদুল ইসলাম অষ্টগ্রাম উপজেলার কাস্তুল ইউনিয়নের বাতশালা গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে। সে তার মায়ের সাথে নানা বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে আলিনগর গ্রামের কৃষক আবু তুরাবের বসতঘরে মশার কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। মুহূর্তে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের ঘরে। এতে দুটি বসতঘর, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্রসহ গৃহস্থালি সামগ্রী সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
এ সময় বসতঘরো নানার সাথে ঘুমন্ত অবস্থায় শিশু তৌহিদুল ইসলাম অগ্নিদগ্ধ হয়। অগ্নিকাণ্ড হাফেজ আবু তুরাব পরিবারের প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এদিকে খবর পেয়ে অষ্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে রওয়ানা করলেও আলীনগর সড়কে অতিরিক্ত গতিরোধক ও রাস্তা দখল করে ব্যাটারিচালিত রিকশা চার্জ দেওয়ার কারণে দেরি হয়। ফলে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে স্থানীয়রা।
পরে স্থানীয় লোকজন আহত তৌহিদুল ইসলামকে উদ্ধার করে অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেও অবস্থার উন্নতি না হলে রাতেই ঢাকা বার্ন ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়া হয়। অগ্নিকাণ্ডে শিশুর প্রায় ৬০ ভাগ শরীর পুড়ে যায়। এরপর বুধবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুর মৃত্যু হয়।
অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোয়েব খান শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নানার সাথে ঘুমন্ত অবস্থায় দগ্ধ হওয়া শিশু তৌহিদুল ইসলামের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। এদিকে তার মৃত্যুতে পরিবারসহ পুরো উপজেলাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এসআর