পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে কুমিল্লা নগরীর বিপণিবিতানগুলোতে কেনাকাটার আমেজ বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে ইফতারের পর থেকে ক্রেতাদের আনাগোনা চোখে পড়ার মতো। কেনাকাটায় নারীরাই এখন পর্যন্ত এগিয়ে রয়েছেন। তবে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিদেশি পোশাকের আধিপত্যে ক্রমেই আড়ালে চলে যাচ্ছে দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পোশাক। পাকিস্তানি ও ভারতীয় ব্র্যান্ডের থ্রি-পিস ও পার্টি ড্রেসে সয়লাব দোকানপাট। এর ভিড়ে স্বকীয়তা হারানোর শঙ্কায় পড়েছে দেশি সুতির শাড়ি, জামদানি ও কাতান।
রমজানের প্রথম সপ্তাহ পার হতেই নগরীর কান্দিরপাড়, রাজগঞ্জ ও চকবাজারসহ প্রধান প্রধান বিপণিবিতানগুলোতে সন্ধ্যার পর ভিড় বাড়ছে। আলোকসজ্জা আর নতুন কালেকশনের ব্যানারে জমে উঠছে ঈদের পরিবেশ। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজার এখনো পুরোপুরি জমেনি; তবে দশ থেকে বারো রমজানের পর বেচাকেনা পুরোদমে শুরু হবে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নগরীর খন্দকার হক টাওয়ার, সাত্তার খান শপিং কমপ্লেক্স, প্ল্যানেট এসআর ও দেলোয়ার রূপায়ণ টাওয়ারসহ বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, নারী পোশাকের দোকানে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। ভিড় এড়াতে অনেকেই আগেভাগে কেনাকাটা সেরে নিচ্ছেন। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পুরুষের তুলনায় নারী ক্রেতার সংখ্যা বেশি। সে কারণে দোকানগুলোতে দেশি-বিদেশি শাড়ি, থ্রি-পিস ও ফোর-পিসের বিশাল সমাহার সাজানো হয়েছে। তবে দেশীয় পোশাকের চেয়ে বিদেশি পোশাকেই ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। বিশেষ করে এবার পাকিস্তানি 'জিমিসু', 'তাওয়াক্কেল' ও 'দাস্তাক' ব্র্যান্ডের থ্রি-পিসের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া ভারতীয় কালেকশনের মধ্যে 'বিচিত্রা' ও 'দিল্লি বুটিকস'-এর থ্রি-পিসও ভালো চলছে।
সাত্তার খান শপিং কমপ্লেক্সের ‘স্টাইল ওয়ান’-এর বিক্রেতা ইউসুফ হক জানান, প্রথম সপ্তাহ যাওয়ার পর থেকে ক্রেতা বাড়ছে। বিদেশি পোশাকের ডিজাইন ও প্রচারণা ক্রেতাদের বেশি আকৃষ্ট করছে। তবে দেশি সুতির শাড়ি, জামদানি ও কাতানও কিছু বিক্রি হচ্ছে। ঈদের কাছাকাছি সময়ে বিক্রি আরও বাড়বে বলে তিনি আশা করেন। খন্দকার হক টাওয়ারের ‘আইডিয়াল ফ্যাশন’-এর পরিচালক জাকির হোসেন বলেন, "এবার পাকিস্তানি ও ভারতীয় ব্র্যান্ডের পাশাপাশি দেশীয় ‘রাখী’ থ্রি-পিসও পাওয়া যাচ্ছে। কাপড় ও কাজভেদে দামের তারতম্য রয়েছে।"
বাজারে আসা ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পছন্দের তালিকায় বিদেশি ব্র্যান্ডই এগিয়ে। শাসনগাছা এলাকার গৃহিণী নুসরাত জাহান বলেন, "বিদেশি থ্রি-পিসের ডিজাইন একটু বৈচিত্র্যময় হয়। কাজও বেশি থাকে, তাই দাম বেশি হলেও এগুলোই কিনছি।" অন্যদিকে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ফারিয়া সুলতানা মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাকিস্তানি ড্রেসের প্রচারণা বেশি থাকায় তরুণীরা সেদিকে ঝুঁকছে। তবে আরামের দিক থেকে দেশি সুতির পোশাকের বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অবশ্য ভিন্ন মতও রয়েছে। রাজগঞ্জ এলাকার ব্যবসায়ী মাহমুদুল হাসান এবার স্ত্রীর জন্য দেশীয় কাতান শাড়ি কিনেছেন। তাঁর মতে, নিজস্ব ঐতিহ্য ধরে রাখা জরুরি; কারণ দেশি পণ্য কিনলে স্থানীয় তাঁতিরা উপকৃত হন। সচেতন মহলের মতে, ঈদ বাজারে বিদেশি পণ্যের প্রভাব এতটাই বেশি যে দেশীয় পণ্য কোণঠাসা হয়ে পড়ছে। স্থানীয় তাঁত ও কারুশিল্প টিকিয়ে রাখতে হলে ক্রেতাদের সচেতনতা এবং দেশীয় ব্র্যান্ডগুলোর নকশায় নতুনত্ব আনা প্রয়োজন।
এনআই