পবিত্র রমজান উপলক্ষে মৌসুম শুরুর আগেই কিশোরগঞ্জের বাজারে রসালো ফল তরমুজে সয়লাব হয়ে গেছে। প্রচণ্ড গরম আর রোজায় তরমুজের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অধিক লাভের আশায় আড়তে অপরিপক্ব তরমুজ সরবরাহ করছেন আড়তদাররা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে সংগৃহীত এসব অপরিপক্ব তরমুজ খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীরা লাভ গুনলেও তরমুজ কাটার পর লালের বদলে ভেতরের রং সাদা দেখে হতাশ হচ্ছেন ক্রেতারা। ফলে গুণগত মানহীন তরমুজ চড়া দামে কিনে প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
জানা গেছে, বিভিন্ন জেলা থেকে আসা তরমুজ দিয়ে কিশোরগঞ্জের চাহিদা পূরণ করা হয়। বর্তমানে এই আমদানিনির্ভর ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। আগে পিস হিসেবে তরমুজ বিক্রি হলেও গত কয়েক বছর ধরে কেজি দরে বিক্রির প্রথা শুরু হয়েছে। চলতি রমজানের শুরু থেকেই চড়া দামে কেজি মেপে তরমুজ বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। একদিকে যেমন উচ্চমূল্য, অন্যদিকে অপরিপক্ব ফল—সব মিলিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কিশোরগঞ্জ শহরের স্টেশন রোড এলাকার ফলের আড়তে সরেজমিনে দেখা যায়, পুরো আড়ত তরমুজে সয়লাব। তবে এর বেশিরভাগই অপরিপক্ব। প্রতিটি তরমুজের ওজন ৪ থেকে ৬ কেজি পর্যন্ত। প্রতি কেজির দাম হাঁকানো হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা। সেই হিসাবে মাঝারি সাইজের একটি তরমুজের দাম পড়ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। পিস হিসেবে কিনতে গেলেও দাম আকাশছোঁয়া। ফলে নিরুপায় হয়ে ক্রেতারা কেজি দরেই কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, তরমুজের দাম নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় তারা এটি কিনতে পারছেন না। তারা কেজি দরে বিক্রি বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের দাবি, বিভিন্ন জেলা থেকে বেশি দামে তরমুজ কিনতে হওয়ায় তাদেরও চড়া দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এখন পুরোপুরি মৌসুম শুরু না হওয়ায় সব তরমুজ পরিপক্ব হয়ে বাজারে আসছে না।
কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সাধারণত ডিসেম্বর মাসে তরমুজের আবাদ শুরু হয় এবং মে মাস হলো এর ভরা মৌসুম। পরিপক্ব তরমুজ উঠতে চৈত্র মাস বা এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়ের প্রয়োজন। কিন্তু চাষিরা দামের আশায় আগেভাগেই অপরিপক্ব তরমুজ তুলে বিক্রি শুরু করে দিয়েছেন।
তরমুজ কিনতে আসা রাকিব হোসেন বলেন, “১০০ টাকা কেজি দরে ৩০০ টাকা দিয়ে একটি তরমুজ কিনেছিলাম। বাসায় এনে কেটে দেখি ভেতরটা সাদা, কোনো স্বাদ নেই। বাজারে অপরিপক্ব তরমুজ চড়া দামে বিক্রি করে আমাদের মতো ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে।”
পুরানথানা এলাকার খুচরা বিক্রেতা মামুন মিয়া জানান, গত বছর এই সময়ে ১০০ তরমুজ ১২-১৩ হাজার টাকায় কেনা গেলেও এবার তা ২০-২৫ হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে। কাচারি বাজারের ফল ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম রতন বলেন, “বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলে ক্রেতাদের কাছে বেশি দামই চাইতে হচ্ছে। দাম শুনেই অনেকে না কিনে চলে যাচ্ছেন।”
স্টেশন রোডের সিদ্দিক ফল ভান্ডারের আড়তদার মো. আবু বক্কার সিদ্দিক জানান, রোজার কারণে চাষিরা অপরিপক্ব তরমুজ তুলে আড়তে পাঠাচ্ছেন। রমজানে চাহিদা বেশি থাকায় বাধ্য হয়ে তারা এগুলো কিনছেন। তবে মৌসুম শুরু হলে দাম কমে আসবে বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, “রমজানের শুরু থেকেই আমরা বাজার মনিটরিং করছি। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের পাশাপাশি তরমুজের বাজারেও নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং বিক্রেতাদের সতর্ক করা হচ্ছে। পাশাপাশি আমরা ক্রেতাদেরও অপরিপক্ব তরমুজ কেনায় নিরুৎসাহিত করছি।”
এনআই