এইমাত্র
  • পাকিস্তানে আফগানিস্তানের হামলা, সীমান্তে তুমুল সংঘর্ষ
  • সেনাবাহিনীর আরও ৬ উচ্চ পদে রদবদল
  • ডিএমপি কমিশনারের দায়িত্বে মো. সরওয়ার
  • ফেব্রুয়ারির ২৫ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২.৭৯ বিলিয়ন ডলার
  • ২০২৫ সালে ৮ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী নিহত বা নিখোঁজ: জাতিসংঘ
  • ৪২ যুদ্ধজাহাজ-সাবমেরিন নিয়ে বঙ্গোপসাগরে বিশাল মহড়া ভারতের
  • ইসরায়েলে পৃথক তিন সড়ক দুর্ঘটনায় ২১ সেনা সদস্যসহ আহত ৩৭
  • উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার বাড়ানোর ঘোষণা কিম জং উনের
  • বইমেলা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
  • মাছ ধরতে গিয়ে আর ফেরা হলো না জেলে শাহাদতের
  • আজ শুক্রবার, ১৩ ফাল্গুন, ১৪৩২ | ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, মরদেহ ফেলে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন উধাও

    মির্জা হৃদয় সাগর, নেত্রকোনা প্রতিনিধি প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:১১ পিএম
    মির্জা হৃদয় সাগর, নেত্রকোনা প্রতিনিধি প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:১১ পিএম

    গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, মরদেহ ফেলে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন উধাও

    মির্জা হৃদয় সাগর, নেত্রকোনা প্রতিনিধি প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:১১ পিএম

    নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় বিয়ের মাত্র তিন মাসের মাথায় রিনা আক্তার (১৯) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, হত্যার পর বিষপানের নাটক সাজিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়েছে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এমনকি গ্রেপ্তারের ভয়ে তড়িঘড়ি করে বাড়ির গবাদিপশু ও আসবাবপত্র নিয়ে এলাকা ছেড়েছে অভিযুক্ত পরিবারটি।


    বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ময়মনসিংহে মরদেহ ফেলে পালানোর এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। নিহত রিনা আক্তার জেলার মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের বাশরি গ্রামের জাকির মিয়ার মেয়ে।


    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রিনা ও কেন্দুয়ার নওপাড়া কোনবাড়ি গ্রামের বিল্লাল মিয়ার ছেলে পিয়াল মিয়া (২৪) চট্টগ্রামে একটি গার্মেন্টসে চাকরির সুবাদে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। তিন মাস আগে পরিবারের সম্মতিতে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে বিয়ের মাত্র ১০-১৫ দিন পর থেকেই পিয়াল স্ত্রীকে অপছন্দ করতে শুরু করেন এবং বিবাহবিচ্ছেদের জন্য চাপ দেন। এ নিয়ে প্রায়ই তাঁদের মধ্যে কলহ ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটত।


    গত বুধবার রাতে পিয়ালের বড় ভাই পিয়াস মুঠোফোনে রিনার বাবাকে জানান যে, রিনা বিষপান করেছেন এবং তাঁকে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে। রিনার স্বজনরা সেখানে গিয়ে কাউকে না পেয়ে খোঁজ শুরু করেন। পরবর্তীতে জানতে পারেন, তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সেখানে পৌঁছে রিনাকে মৃত অবস্থায় পেলেও শ্বশুরবাড়ির কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।


    রিনার বাবা জাকির মিয়ার অভিযোগ, "আমার মেয়ে বিষ খায়নি। পিয়ালের পরিবার তাকে হত্যা করে বিষপানের নাটক সাজিয়েছে। বিয়ের পর থেকেই তারা মেয়ের ওপর নির্যাতন চালাত। অপরাধ না করলে তারা কেন মরদেহ ফেলে পালাবে?" রিনার দাদা জুলহাস মিয়ার দাবি, খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।


    খবর পেয়ে কেন্দুয়া থানার পুলিশ পিয়ালের বাড়িতে অভিযানে গেলে পুরো ঘর তালাবদ্ধ দেখতে পায়। প্রতিবেশীরা জানান, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা গবাদিপশু ও মালামালসহ উধাও হয়ে গেছেন।


    কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদি মাকসুদ জানান, "খবর পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। অভিযুক্তরা সবাই পলাতক। ময়মনসিংহে লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। নিহতের পরিবার মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং মামলার ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"


    বৃহস্পতিবার রাতে রিনার মরদেহ নিজ গ্রাম বাশরিতে দাফন করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং নিহতের পরিবার এই ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের’ দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছে।


    এনআই

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    চলতি সপ্তাহে সর্বাধিক পঠিত

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    Loading…