কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার মানিকারচর ইউনিয়নের বড় নয়াগাঁও গ্রামের মুন্সি বাড়ির ছামাদ মাস্টারের ছেলে ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. সেতারুজ্জামানকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র (বালিকা)-এ নিবাসী কিশোরী ও নারী কর্মীদের সঙ্গে যৌন হয়রানি, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখা থেকে ২৫ জানুয়ারি জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর পরিচালকের (প্রশাসন) দ্বিতীয় সচিবের কার্যালয় থেকে তার বিরুদ্ধে সরকারি চাকরির শৃঙ্খলাভঙ্গের একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছিল। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী মো. সেতারুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এর আগেও সেতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। মেঘনা উপজেলার বড় নয়াগাঁও গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজাফফর হোসেনের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম অভিযোগ করেন, ২০১৭ সালে তিনি দাউদকান্দিতে দায়িত্ব পালনকালে অতিরিক্তভাবে মেঘনায় দায়িত্বও পালন করছিলেন। সে সময় সেতারুজ্জামান মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৩০ লাখ টাকার সরকারি ভবন নির্মাণের কথা বলে তাঁর স্বামীর কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা নেন। ছয় মাসের মধ্যে কাজ শুরু হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি এবং টাকা ফেরতও দেওয়া হয়নি। যার কারণে এই প্রতারণার মানসিক চাপ ও দৌড়ঝাঁপের মধ্যে আমার স্বামী ২০১৯ সালের ১৫ অক্টোবর হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।”
এ ঘটনায় সুরাইয়া বেগম সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছিলেন। পরে জেলা সমাজসেবা কার্যালয় ৭ অক্টোবর পাঠানো এক চিঠিতে জানায়, অভিযোগের তদন্ত ২০ অক্টোবর সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে। তবে তদন্ত শেষ হলেও এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি মসজিদে থাকার কথা জানিয়ে ফোনটি কেটে দেন।
এসআর