বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার খলিফারহাট বাজারে একটি পরিত্যক্ত সরকারি মহিলা মার্কেট দখলের পাঁয়তারা করছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল। এমনকি মার্কেটটি ভেঙে ফেলার জন্য প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদনও জানিয়েছে তারা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জমির দাতা ও বাজার কমিটির মধ্যে দ্বন্দ্বে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সালে স্থানীয় নারীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে বাজার সংলগ্ন এলাকায় ‘মহিলা মার্কেট’ নির্মাণ করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার পর সম্প্রতি বাজার কমিটি ও ইউনিয়ন পরিষদ এটি সংস্কারের উদ্যোগ নিলে বাধা হয়ে দাঁড়ায় একটি পক্ষ।
চরদুয়ানি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন দ্বন্দ্বের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “পরিত্যক্ত মহিলা মার্কেটটি পুনরায় সচল করার জন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু একটি পক্ষ এটি ভেঙে ফেলার চেষ্টা করায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বাজারের স্বার্থে এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এই মার্কেটটি চালু হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন।”
খলিফারহাট ব্যবসায়ী বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর মৃধা বলেন, “মার্কেটটি সংস্কার করে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে আবেদন করেছি। প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদ যৌথভাবে বরাদ্দ দিলেও একটি পক্ষের বাধার কারণে সংস্কার কাজ থেমে আছে। আমাদের দাবি, দ্রুত এটি সংস্কার করে স্থানীয় নারী উদ্যোক্তাদের নামে বরাদ্দ দেওয়া হোক।”
মার্কেটের জমির পূর্বের মালিক কাঞ্চন আলী জানান, সাবেক চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে তিনি এই জমিটি মহিলা মার্কেটের জন্য দান করেছিলেন। তবে পরবর্তীতে জমিটি স্থানীয় ব্যবসায়ী কাইয়ুম মাঝির কাছে বিক্রি করেন তিনি।
এ বিষয়ে কাইয়ুম মাঝি বলেন, “২০২৩ সালে আমি এই জমিটি কিনেছি। যেহেতু মার্কেটটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত, তাই এটি ভেঙে ফেলার জন্য ইউএনও বরাবর দরখাস্ত দিয়েছি। এখন অন্য একটি পক্ষ এটি সংস্কার করে চালু করতে চাইছে।”
পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইশরাত জাহান বলেন, “খলিফারহাট মহিলা মার্কেটটি বর্তমানে কী অবস্থায় আছে তা খতিয়ে দেখে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এনআই