যুক্ত্ররাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিন শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলা এতটাই নিখুঁত ও সফল ছিল যে, ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার দৌড়ে থাকা পছন্দের প্রায় সকল সম্ভাব্য প্রার্থীই নিহত হয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এমনটাই দাবি করেছেন তিনি।
এবিসি নিউজের সাংবাদিক জনাথন কার্লকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, এই আক্রমণ এতটাই সফল ছিল যে এটি সম্ভাব্য অধিকাংশ প্রার্থীকে (উত্তরসূরি) নির্মূল করে দিয়েছে। আমরা ইরানের নেতৃত্বের জন্য যাদের কথা ভাবছিলাম তাদের কাউকেই এখন আর পাওয়া যাবে না, কারণ তারা সবাই মারা গেছে। তালিকায় থাকা দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্থানের ব্যক্তিরাও এখন মৃত।
ইরানের দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর দেশটিতে ক্ষমতার হস্তান্তর কীভাবে ঘটবে—তা নিয়ে যখন নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, ঠিক এমন সময়ই ট্রাম্পের তরফ থেকে এমন মন্তব্য এলো।
খামেনিকে হত্যার বিষয়টি উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি মারার আগেই আমি মেরে ফেলেছি। তারা দুবার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু আমিই আগে তাকে কুপোকাত করেছি।
এর আগে, ২০২৪ সালে বিচার বিভাগ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ট্রাম্পকে হত্যার ব্যর্থ ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ফেডারেল চার্জ গঠন করেছিল। আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, ইরানি কর্মকর্তারা এই ষড়যন্ত্রের অন্যতম সন্দেহভাজন ফরহাদ শাকেরিকে ট্রাম্পের ওপর নজরদারি ও হত্যার দায়িত্ব দিয়েছিলেন।
নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া পৃথক এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানেও ভেনেজুয়েলা মডেলে ক্ষমতা হস্তান্তর হতে পারে।
চলতি বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানে নিকোলা মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমার মনে হয় আমরা ভেনেজুয়েলায় যা করেছি, সেটা একটা নিখুঁত উদাহরণ। সেখানে মাত্র দুইজন ব্যক্তি ছাড়া বাকি সবাই নিজ পদে বহাল রয়েছেন।
ইরানের নেতৃত্বে তিনি কাকে দেখতে চান- এ প্রশ্নের জবাবে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে ট্রাম্প জানান, ইরানের নেতৃত্ব কে দিতে পারেন, সে ব্যাপারে তার কাছে তিনটা খুব ভালো পছন্দের নাম আছে।
তবে নাম তিনটি প্রকাশ করেননি ট্রাম্প। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এখনই নামগুলো প্রকাশ করবো না। আগে কাজটা শেষ হোক।’
ইখা