বরিশাল নগরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুর থেকে নগরের অধিকাংশ পাম্পে অকটেন না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে যানবাহন চালকদের। সংকটের কারণে ইতোমধ্যে নতুন বাজার এলাকার একটি ফিলিং স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে বরিশালে জ্বালানি তেলের দাম বাড়েনি, আগের নির্ধারিত দরেই বিক্রি চলছে।
শনিবার (৭ মার্চ) দুপুর পর্যন্ত বরিশাল নগরের নতুন বাজার, নথুল্লাবাদ, কাশিপুর ও রুপাতলীসহ বিভিন্ন এলাকার পাম্পগুলো ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ পাম্পের সামনে ‘অকটেন নেই’ লেখা বোর্ড ঝুলছে। অকটেন না পেয়ে অনেক চালক বাধ্য হয়ে পেট্রোল সংগ্রহ করছেন। তবে পাম্পগুলো থেকে মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে ২০০ থেকে ৩০০ টাকার বেশি পেট্রোল দেওয়া হচ্ছে না। হঠাৎ এই সংকটে চরম বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালকরা।
চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা থেকে অনেকে আগেভাগেই যানবাহনের ফুয়েল ট্যাংক পূর্ণ করে রাখতে চাইছেন। ফিলিং স্টেশনের কর্মীরা জানান, শুক্রবার স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ তেল বিক্রি হয়েছে। অতিরিক্ত চাহিদার বিপরীতে তেলের গাড়ি সময়মতো না পৌঁছানোয় এই সাময়িক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।
সুরভী ফিলিং স্টেশনের সহকারী ম্যানেজার রাফি জানান, বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকেই তাঁদের পাম্পে অকটেন নেই এবং পেট্রোলের চাহিদাও কয়েকগুণ বেড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার নির্ধারিত পরিমাণের বেশি কাউকে তেল দেওয়া হচ্ছে না।
ইসরাইল ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আব্দুর রব সিকদার জানান, পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় এই সাময়িক সংকট দেখা দিয়েছে। তবে রোববার নাগাদ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে মেঘনা পেট্রোলিয়াম বরিশালের ডিপো ইনচার্জ মো. শাহ আলম জানান, “মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে, উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। তেলবাহী জাহাজ আসার ওপর ভিত্তি করে ডিপোগুলো তেল সরবরাহ করে। আশা করছি, রোববার থেকে পাম্পগুলোতে সব ধরনের তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।”
ভোক্তাদের অভিযোগ, ডিজেল চালিত যানবাহনে সমস্যা না হলেও অকটেন ও পেট্রোল চালিত যানবাহনের ক্ষেত্রে কৃত্রিম সংকটের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এনআই