জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেড (কালব)-এর ঋণ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে শিক্ষক সমাজে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্বল্প সুদ ও সহজ শর্তের আশ্বাসে ঋণ গ্রহণ করলেও পরবর্তীতে চক্রবৃদ্ধি সুদ ও জরিমানার কারণে অনেক শিক্ষক-কর্মচারী চরম সংকটে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, উপজেলায় বর্তমানে সংস্থাটির মোট সদস্য সংখ্যা ৪৪০ জন। এসব সদস্যকে প্রায় ২ কোটি ৬ লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। এর বিপরীতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। খেলাপি ঋণের জেরে এ পর্যন্ত ৩৪ জন শিক্ষক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে দুজন শিক্ষক বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষকরা জানান, স্বল্প বেতনে সংসার পরিচালনা, সন্তানদের লেখাপড়া ও পারিবারিক প্রয়োজনে তারা কালব থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হন। ঋণ নেওয়ার সময় স্বল্প সুদের কথা বলা হলেও বাস্তবে ঋণের সুদ ও শর্তে ব্যাপক অমিল রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ঋণগ্রহীতাদের নিয়মিত হিসাব বিবরণী বা পাসবই দেওয়া হয় না। ফলে কত সুদ কিভাবে যোগ হচ্ছে, তা তারা জানতে পারছেন না।
ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, কিস্তি পরিশোধে সামান্য দেরি হলেই সুদের ওপর অতিরিক্ত জরিমানা আরোপ করা হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে ঋণের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই উকিল নোটিশ ও মামলা দেওয়া হয়েছে। এতে শিক্ষক সমাজে ভয় ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।
কালবের চেয়ারম্যান ও শান্তিনগর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন বলেন, ঋণ কার্যক্রম মাসিক সুদের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ না করলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চক্রবৃদ্ধি সুদ যোগ হয় এবং বাধ্য হয়ে আইনি ব্যবস্থা নিতে হয়।
উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অভিযোগ পেলে কালবের ঋণ কার্যক্রম তদন্ত করা হবে। তবে আদালতে বিচারাধীন বিষয়ে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরা জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইখা