এইমাত্র
  • ৭ ঘণ্টা পর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় ফেরি চলাচল শুরু
  • নাইজেরিয়া গ্রামে ভয়াবহ হামলা, নিহত অন্তত ৩০
  • শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে দেশ, তাপমাত্রা নামতে পারে ৭ ডিগ্রিতে
  • দীর্ঘ ১৯ বছর পর বগুড়া যাচ্ছেন তারেক রহমান, সফরসূচিতে রংপুর-সিলেট
  • ভোরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত
  • দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক
  • ৩৪ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে বিশ্ব ইজতেমা, লাখো মুসল্লির ঢল
  • নতুন বছরের শুরুতেই বাড়ল স্বর্ণের দাম
  • নাইজেরিয়ায় বাজারে বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত অন্তত ৩০
  • কুয়েত থেকে ৪০ হাজার প্রবাসী বিতাড়িত
  • আজ সোমবার, ২২ পৌষ, ১৪৩২ | ৫ জানুয়ারি, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    বাউফলে বন্ধ চাতাল, তবু সরকারি খাদ্যগুদামে চলছে চাল সরবরাহ!

    কৃষ্ণ কর্মকার, বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি প্রকাশ: ৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম
    কৃষ্ণ কর্মকার, বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি প্রকাশ: ৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম

    বাউফলে বন্ধ চাতাল, তবু সরকারি খাদ্যগুদামে চলছে চাল সরবরাহ!

    কৃষ্ণ কর্মকার, বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি প্রকাশ: ৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম

    পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে তিনটি চাতাল (চালকল)। উৎপাদন কার্যক্রম না থাকা সত্ত্বেও সরকারি খাদ্য গুদামের চাল সরবরাহের তালিকায় রয়েছে ওই তিনটি চাতালের নাম।

    অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে সরকারি নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে চলছে খাদ্যগুদামে নিম্ন মানের চাল সরবরাহ কার্যক্রম।

    উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বাউফল উপজেলার বগা ও কালাইয়া খাদ্য গুদামের জন্য ১ হাজার ৫৩০ মেট্রিকটন চাল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

    এর মধ্যে কালাইয়া খাদ্যগুদামের জন্য ৫৫০ মেট্রিক টন ও  বগা খাদ্য গুদামের জন্য ৯৮০ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের কথা রয়েছে। যার প্রতি কেজি চালের দাম ধরা হয় ৫০ টাকা করে।

    উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে,বগা খাদ্য গুদামের চাল সংগ্রহের জন্য সোনাই অটো রাইস মিল নামে একটি চাতালের সঙ্গে চুক্তি করা হয়।

    কালাইয়া খাদ্য গুদামের জন্য চাল সরবরাহ চুক্তি করা হয়েছে সিকদার অটো রাইস মিল, সুচিত্রা রাইস মিল, হিরোন বালা রাইস মিল ও মের্সাস প্যাদা রাইস মিল মালিকের সঙ্গে।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, সোনাই ও সিকদার অটো রাইস মিল দুটিতে কার্যক্রম চলছে। বাকি তিনটি সুচিত্রা রাইস মিল, হিরোন বালা রাইস মিল ও মের্সাস প্যাদা রাইস মিলের কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। সেখানে ধান ভাঙানো, সিদ্ধকরণ বা শুকানোর কোনো কার্যক্রম নেই প্রায় তিন বছর ধরে। এসব চাতালের যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে, মিল ভবনে তালা ঝুলছে।

    চুক্তি অনুযায়ী মিল মালিকেরা স্থানীয় বাজার থেকে ধান সংগ্রহ করে নিজ চাতালে প্রক্রিয়াজাত করে উৎকৃষ্ট মানের চাল সরকারি খাদ্য গুদামে সরবারহ করবেন।

    তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সুচিত্রা রাইস মিলের মালিক রমেশ সাহা নওপাড়া রাইস মিল থেকে চাল কিনে এনে ২৬ মেট্রিক টন চাল সরবরাহ করেছেন। কাগজে কলমে স্থানীয় বাজার থেকে ধান সংগ্রহ করে তার নিজস্ব চাতালে প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে বলে দেখানো হয়েছে। যা নিম্ন মানের বলে জানিয়েছেন খাদ্যগুদামের একাধিক সূত্র।

    এ বিষয়ে রমেশ সাহার কাছে জানতে চাইলে তিনি নিউজ না করার জন্য অনুরোধ করেন।

    সুচিত্রা রাইস মিলের পাশেই রয়েছে হিরোনবালা রাইস মিল। সেটিও বন্ধ। এই মিল থেকে ৫৩ মেট্রিকটন চাল সরবরাহ করার কথা রয়েছে। হিরোনবালার মালিক শঙ্কর দাসও বাহির থেকে চাল কিনে সরবরাহ করবেন বলে স্বীকার করে বলেন, ‘সবাই কিনে চাল সরবরাহ করে। অফিসের সবাইকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করেই চাল সরবরাহ করে থাকেন।’

    একই এলাকায় প্যাদা রাইস মিলও কয়েক বছর ধরে বন্ধ। এই মিলের মালিক আবদুর রশিদ প্যাদা বলেন, তিনি এখন পর্যন্ত চাল সরবরাহ করেননি। তার মিল বন্ধ থাকায় বাহির থেকে চাল ক্রয় করে খাদ্যগুদামে সরবরাহ করবেন।

    স্থানীয় কৃষক মো. মিল্টন প্যাদা, মো.আলমগীর, মো. ফারুক হোসেনসহ অন্তত ১৫ জন কৃষক অভিন্নভাবে বলেন, খাদ্য গুদামের সরবরাহকৃত চাল যদি সরকারি নিয়ম মেনে চাতাল মালিকেরা স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনে নিয়ে চাতালে চাল তৈরি করে সেই চাল খাদ্যগুদামে সরবরাহ করতেন, তাহলে কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য পেতেন। এতে কৃষিকাজে কৃষকদের আগ্রহ আরও বাড়তো।

    অভিযোগের বিষয়ে অস্বীকার করে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. নুরুল্লাহ্ বলেন, ‘তারা যখন চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন, তখন চাতালগুলো চালু ছিল।’

    আরডি

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    Loading…