টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি—যে সংস্করণই হোক, প্রতিপক্ষ দলের কাছে মূর্তিমান এক আতঙ্ক ট্রাভিস হেড। অস্ট্রেলিয়ার এই বাঁহাতি ব্যাটার আজ ভেঙে দিলেন স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের ৯৬ বছরের পুরোনো এক রেকর্ড।
অ্যাশেজের শেষ টেস্টের তৃতীয় দিনে নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের ১২তম সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন হেড। এরপর থামার কোনো ইঙ্গিত ছিল না। ইনিংসটি তিনি নিয়ে যান ১৬৩ রানে।
১৬৩ রানের ইনিংস খেলার পথে অ্যাশেজ ইতিহাসে যৌথভাবে তৃতীয় দ্রুততম ১৫০ রানের কীর্তি গড়েছেন তিনি। আজ তিনি ১৫০ করেছেন ১৫২ বলে। হেডের ঝোড়ো সেঞ্চুরির দিনে পেছনে পড়ে গেল স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের ৯৬ বছরের পুরোনো এক রেকর্ড। ১৯৩০ সালে লর্ডসে ১৬৬ বলে ১৫০ রান তুলে নিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার এই ব্যাটিং কিংবদন্তি।
হেডের ব্যাটে ভর করেই দিনটি নিজেদের করে নেয় অস্ট্রেলিয়া। তৃতীয় দিনের খেলা শেষে প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেটে ৫১৮ রান তুলে ফেলেছে স্বাগতিকেরা। ইংল্যান্ডের চেয়ে তারা এগিয়ে আছে ১৩৪ রানে। স্টিভ স্মিথ ১২৯ রান এবং বিউ ওয়েবস্টার ৪২ রানে অপরাজিত আছেন।
এর আগে ২ উইকেটে ১৬৬ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করে অজিরা। তবে ২০ ওভার পর ব্রাইডন কার্স নেসারকে ফিরিয়ে দিলে ভাঙে তৃতীয় উইকেটের জুটি। তবে অন্যপ্রান্তে চলছিল হেডের ব্যাট। স্টিভ স্মিথকে সঙ্গে নিয়ে ধীরে ধীরে আবার ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ নেন তিনি।
ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ২৪টি চার ও একটি ছক্কায় সাজানো হেডের ইনিংস থামে ১৬৬ বলে ১৬৩ রানে। জ্যাকব বেথেলের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরার আগে তিনি ম্যাচের গতিপথ অনেকটাই অস্ট্রেলিয়ার দিকে ঘুরিয়ে দেন।
হেডের বিদায়ের পর দায়িত্ব নেন স্টিভ স্মিথ। সিডনির দর্শকদের সামনে টেস্ট ক্যারিয়ারের ৩৭তম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। এই সেঞ্চুরির মাধ্যমে টেস্টে শতকের সংখ্যায় রাহুল দ্রাবিড়কে ছাড়িয়ে যান অস্ট্রেলিয়ার এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। তিন অঙ্ক স্পর্শ করার পর পুরো গ্যালারি দাঁড়িয়ে সম্মান জানায় স্মিথকে।
দিনের শেষ ভাগে ওয়েবস্টারকে সঙ্গে নিয়ে অষ্টম উইকেটে বড় জুটি গড়েন স্মিথ। দুজনের অপরাজিত জুটিতে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস আরও শক্ত ভিত পায়।
আরডি