এইমাত্র
  • আকুর দায় পরিশোধের পরও রিজার্ভ ৩২ বিলিয়নের ওপরে
  • খালেদা জিয়ার নামে যুক্তরাষ্ট্রে রাস্তার নামকরণ
  • কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়াগামী তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলা
  • যুদ্ধের জন্য ইউক্রেনকে ঋণ দিচ্ছে, আবার রাশিয়ার খরচও জোগাচ্ছে ইইউ
  • তীব্র উত্তেজনার মাঝেই ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা পালিয়েছেন
  • অবশেষে বিসিবির মেইলের জবাব দিয়েছে আইসিসি, যা লেখা আছে
  • সময়ের কণ্ঠস্বরের পটুয়াখালী প্রতিনিধি জাহিদ রিপন আর নেই
  • 'জুলাই বার্তাবীর' সম্মাননা পেলেন সময়ের কণ্ঠস্বরের সাবেক প্রতিবেদক জুনাইদ আল হাবিব
  • টানা হারে নোয়াখালীর সমর্থকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ সৌম্যের
  • পে-স্কেল নিয়ে সবশেষ যা জানা গেল
  • আজ শুক্রবার, ২৫ পৌষ, ১৪৩২ | ৯ জানুয়ারি, ২০২৬
    আন্তর্জাতিক

    সিআইএর ‘ডাবল এজেন্ট’ অলড্রিখ এইমসের মৃত্যু

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশ: ৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
    আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশ: ৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:১৪ পিএম

    সিআইএর ‘ডাবল এজেন্ট’ অলড্রিখ এইমসের মৃত্যু

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশ: ৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:১৪ পিএম

    যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) ইতিহাসে সবচেয়ে কুখ্যাত ‘ডাবল এজেন্ট’ অলড্রিখ এইমস মারা গেছেন।  সোমবার (২৯ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের কম্বারল্যান্ডে অবস্থিত ফেডারেল কারেকশনাল ইনস্টিটিউশনে ৮৪ বছর বয়সি সিআইএর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তার মৃত্যু হয়।  আজীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এইমসের সাজায় প্যারোলে মুক্তির কোনো সুযোগ ছিল না। 

    সিআইএর জন্য কাজ করলেও তিনি ১৯৮৫ সাল থেকে দীর্ঘ প্রায় নয় বছরের বেশি সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছে গোপন তথ্য বিক্রি করেন।  যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করা দ্বৈত গুপ্তচরদের একজন হিসেবে পরিচিত এইমসের কর্মকাণ্ডে একশটিরও বেশি গোপন অভিযান ব্যাহত হয়।  তার ফাঁস করা তথ্যের কারণে পশ্চিমা দেশগুলোর হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করা ৩০ জনের বেশি এজেন্টের পরিচয় প্রকাশ পায় এবং অন্তত ১০ জন সিআইএ কর্মকর্তা প্রাণ হারান।

    অলড্রিখ এইমসের সিআইএ জীবনের শুরু ১৯৬২ সালে। কলেজের পড়াশোনা শেষ না করেই তিনি বাড়ি ফিরে আসেন।  তার বাবা নিজেও সিআইএর একজন বিশ্লেষক ছিলেন।  বাবার সূত্র ধরেই তিনি সিআইএতে যোগ দেন এবং টানা প্রায় ৩১ বছর সেখানে কাজ করেন।  

    কেজিবির কাছে তার সাংকেতিক নাম ছিল ‘কোলোকল’—ইংরেজিতে যার অর্থ ‘দ্য বেল’।  এই সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নে কর্মরত প্রায় সব সিআইএ গুপ্তচরের পরিচয় তিনি ফাঁস করে দেন।  এর ফলেই ১৯৮৫ সালে হঠাৎ করে একের পর এক সোভিয়েত এজেন্ট নিখোঁজ হতে শুরু করেন।  কেজিবি তাদের ধরে নিয়ে যায় এবং অনেকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

    ১৯৯৪ সালের ২৮ এপ্রিল আদালত এইমসকে আজীবন কারাদণ্ড দেন।  বিচারের সময় তিনি সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং পরবর্তীতে রাশিয়ার কাছে গোপন তথ্য বিক্রির কথা স্বীকার করেন।  আদালতে পড়া আট পাতার বিবৃতিতে এইমস জানান, ঋণ পরিশোধের তাগিদ থেকেই তিনি অর্থের বিনিময়ে বিশ্বাসঘাতকতার পথ বেছে নিয়েছিলেন।  তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৮৫ সালের এপ্রিল থেকে তিনি কেজিবিকে সিআইএর গুপ্তচরদের নাম দিতে শুরু করেন এবং প্রথম দফায় ৫০ হাজার ডলার পান।

    এইমস আদালতকে আরও জানান, কেজিবি তার দেওয়া তথ্যের কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তার জন্য আলাদা করে ২০ লাখ ডলার রাখার কথা বলেছিল—যা তার কাছে আজও বিস্ময়কর।  মোট মিলিয়ে তিনি দফায় দফায় প্রায় ২৫ লাখ ডলার পেয়েছিলেন।  এই অর্থেই তিনি বিলাসী জীবনযাপন শুরু করেন, নতুন জাগুয়ার গাড়ি কেনেন, বিদেশ ভ্রমণ করেন এবং সাড়ে পাঁচ লাখ ডলারের একটি বাড়ি কেনেন।  অথচ তার বার্ষিক বেতন কখনোই ৭০ হাজার ডলারের বেশি ছিল না।

    কারাগারে এইমসের মৃত্যু এক যুগের অবসান ঘটালেও তার বিশ্বাসঘাতকতার ক্ষতচিহ্ন আজও মার্কিন গোয়েন্দা ইতিহাসে গভীরভাবে দাগ কাটে। দীর্ঘ কর্মজীবনের শেষ পরিণতি হয় যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বিশ্বাসঘাতকতার এক দৃষ্টান্ত হিসেবে।

    এবি 

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    চলতি সপ্তাহে সর্বাধিক পঠিত

    Loading…