এইমাত্র
  • শীর্ষ তিন পদেই ছাত্রশিবির প্যানেলের জয়
  • ৪৮৯ উপজেলায় বিজিবি মোতায়েন থাকবে
  • রাজধানীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে গুলি করে হত্যা
  • সিআইএর ‘ডাবল এজেন্ট’ অলড্রিখ এইমসের মৃত্যু
  • দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্ববৃহৎ ব্লাকআউট থেকে ফিরেছে বার্লিন
  • নিজেদের নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়তে বলছে অস্ট্রেলিয়া
  • ট্রাম্প-নেতানিয়াহুকে ইরানের সেনাপ্রধানের কঠোর হুঁশিয়ারি
  • পিএসএলে নিবন্ধন করলেন মুস্তাফিজসহ ১০ বাংলাদেশি
  • হলফনামা ও রিটার্নের তথ্যে গরমিলকে ‘টাইপিং মিসটেক’ বললেন সারজিস
  • যুক্তরাষ্ট্রের তাড়া করা ট্যাংকারের সুরক্ষায় সাবমেরিন পাঠালো রাশিয়া
  • আজ বৃহস্পতিবার, ২৪ পৌষ, ১৪৩২ | ৮ জানুয়ারি, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    কিশোরগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

    সাব্বির হোসেন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি প্রকাশ: ৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম
    সাব্বির হোসেন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি প্রকাশ: ৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম

    কিশোরগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

    সাব্বির হোসেন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি প্রকাশ: ৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম

    কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী খেলা ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাওয়া এই খেলা দেখতে শীতের তীব্রতা উপেক্ষা করে ছুটে আসেন নানা শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ। মাঠের চারিদিকে থাকা হাজার হাজার দর্শক শ্রোতা করতালির মাধ্যমে তাদেরকে উৎসাহ দিয়ে এক মনোমুগ্ধকর পরিবশের সৃষ্টি করে। এমন আয়োজনে খুশি দর্শনার্থীরা। আগামীতেও এমন আয়োজনের দাবি তাদের। এদিকে আয়োজক কমিটিও আগামীতে এমন আয়োজন করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

    আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় কালের বিবর্তনে প্রায় হারিয়ে যাচ্ছে। তাই গ্রাম বাংলার এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে গতকাল সোমবার (০৫ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর এলাকায় পতিত ফসলি জমিতে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে এলাকাবাসী। আর ঘোড়দৌড়কে কেন্দ্র করে উৎসবে মেতে উঠেছে স্থানীয়রা। সকাল থেকেই প্রতিটি বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবরা এসে মিলন মেলায় পরিণত করে। অনেকের বাড়িতেই আয়োজন করা হয় নানা রকমের পিঠেপুলির।

    বিকেলে প্রতিযোগিতা শুরু হতেই মাঠের চারদিকে হাজারো দর্শকের উচ্ছ্বসিত আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে। দর্শকের মুহুর্মুহু করতালি আর চিৎকারে অন্যরকম আনন্দ বয়ে যায়। শিশু যুবক বৃদ্ধসহ খেলা উপভোগ করেন সকল বয়সী নারীরাও। এ যেন চিরায়ত বাঙালির চিরচেনা মিলনমেলা। এদিকে, ঘোড়দৌড় দেখতে দূরদূরান্ত থেকে সব বয়সের হাজার হাজার মানুষ আসেন। দূরদূরান্তের আত্মীয় স্বজনরা বেড়াতে আসেন দুর্গাপুর এলাকার আশপাশের গ্রামে। এলাকাজুড়ে আনন্দ ও উৎসবে মেতে উঠে খেলাপ্রেমীরা। ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতাকে ঘিরে মাঠে বসে গ্রামীণ মেলা। নানা পণ্য সামগ্রীর দোকান বসে মেলায়। মিষ্টান্ন আর বাহারী সব খাবারের পসরা বসে পতিত জমিতে প্রতিযোগিতা হওয়ার মাঠের চারদিক।

    প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মোট ১৪টি ঘোড়া এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। বড়, মাঝারি ও ছোট তিন বিভাগে বিভক্ত হয়ে ঘোড়াগুলো প্রতিটি ধাপে প্রায় এক কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়। প্রতিযোগিতার তিনটি বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন কটিয়াদীর বনগ্রামের রবিন মিয়া। দ্বিতীয় হন গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার কাওসার এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেন কটিয়াদীর মানিকখালীর সোহাগ। 

    প্রতিযোগিতা শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন সাবেক সংসদ সদস্য আনিসুজ্জামান খোকন। প্রতিটি বিভাগে প্রথম স্থান অর্জনকারীকে একটি রেফ্রিজারেটর, দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারীকে একটি খাসি এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারীকে একটি এলইডি টিভি প্রদান করা হয়। এছাড়া অন্যান্য বিজয়ীদের জন্য ছিল ছাগল ও মোবাইল ফোনসহ আকর্ষণীয় সব পুরস্কার।

    ঘোড়াদৌড় দেখতে আসা তাসলিমা আক্তার বলেন, ‘টিভিতে ঘোড়াদৌড় দেখে ছিলাম সরাসরি কখনো দেখি নাই। আগে কখনো ঘোড়াদৌড় দেখিনি। তাই বাবার সাথে এখানে ঘোড়াদৌড় দেখতে এসেছি। এ আয়োজন দেখতে আমার মতো অনেক মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে এসেছেন। চমৎকার এ আয়োজনে বাঁধ ভাঙা উল্লাসে মেতে ওঠেন সবাই। এ প্রতিযোগিতা দেখে খুবই ভালো লাগছে। এমন আয়োজন প্রতি বছর হলে দেখতে চান বলেও জানান তিনি।

    স্থানীয় যুবক রফিকুল ইসলাম মিলন বলেন, গত কয়েক বছর ধরে এই ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা হচ্ছে আমাদের এলাকায়। এই আয়োজনকে ঘিরে এলাকায় একটা উৎসব তৈরি হয়। অনেকেই দূরদূরান্ত থেকে এখানকার আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে বেড়াতে আসে। দুই ইদের পর সবচেয়ে বড় উৎসব এখন ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা। এমন আয়োজন যাতে আগামীতেও অব্যাহত থাকে সেই দাবি জানায়।

    ঘোড়দৌড় দেখতে আসা দর্শক রাকিব হোসেন বলেন, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলা ঘোড়দৌড়। আগে বিভিন্নস্থানে খেলাগুলো দেখা যেতো। কিন্তু এখন সচরাচর আর দেখা যায় না। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে। শুধু ঘোড়াদৌড় না আরও যেসব গ্রামীণ খেলা আছে সেগুলোও নিয়মিত আয়োজন করা প্রয়োজন। এতে করে নতুন প্রজন্ম আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারবে।

    ঘোড়দৌড়ে অংশ নেওয়া ইমরান হোসেন বলেন, এখানে নিজের ঘোড়া নিয়ে প্রতিযোগিতায় এসেছি। প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পেরে খুব ভালো লাগছে। এলাকার মানুষও আনন্দ পাচ্ছে। আমারা পুরষ্কার পাওয়ার জন্য নয়, মানুষকে আনন্দ দিতে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করি।

    ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধীকারী রবিন মিয়া বলেন, ‘আমি প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন জেলা গিয়ে ঘোড়া দৌড়াই। ছোট বেলা থেকেই ঘোড়া দৌড়াই। আমার পালে ৪টি ঘোড়া আছে। ৪টি ঘোড়াই দৌড়ানোর ঘোড়া। এর মধ্যে দেশি-বিদেশি ঘোড়াও আছে।’ দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন এলাকায় ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নেই। শারীরিক অবস্থা যতদিন ভালো থাকবে ততদিন তিনি ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন বলেও জানান।

    ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজক চান্দপুর ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি মোঃ শহিদুজ্জামান সেলিম বলেন, এলাকার তরুণ ও যুবকদের নির্মল বিনোদন দিতে এবং মাদক থেকে দূরে রাখতে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার আয়োজন করা হয়। কয়েক বছর ধরে গ্রাম বাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। স্থানীয় লোকজন এই খেলা থেকে বেশ খুশি। আগামীতেও এ ধরনের আয়োজন করা হবে।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক সংসদ সদস্য ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আনিসুজ্জামান খোকন বলেন, ‘আমি আমেরিকায় থাকি। দীর্ঘদিন পর নির্বাচন উপলক্ষে এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা দেখে খুব ভালো লাগলো। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে এই আয়োজন উপভোগ করেছেন। আগামী বছর আরও বড় পরিসরে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।’

    আরডি

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    চলতি সপ্তাহে সর্বাধিক পঠিত

    Loading…