এইমাত্র
  • শীর্ষ তিন পদেই ছাত্রশিবির প্যানেলের জয়
  • ৪৮৯ উপজেলায় বিজিবি মোতায়েন থাকবে
  • রাজধানীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে গুলি করে হত্যা
  • সিআইএর ‘ডাবল এজেন্ট’ অলড্রিখ এইমসের মৃত্যু
  • দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্ববৃহৎ ব্লাকআউট থেকে ফিরেছে বার্লিন
  • নিজেদের নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়তে বলছে অস্ট্রেলিয়া
  • ট্রাম্প-নেতানিয়াহুকে ইরানের সেনাপ্রধানের কঠোর হুঁশিয়ারি
  • পিএসএলে নিবন্ধন করলেন মুস্তাফিজসহ ১০ বাংলাদেশি
  • হলফনামা ও রিটার্নের তথ্যে গরমিলকে ‘টাইপিং মিসটেক’ বললেন সারজিস
  • যুক্তরাষ্ট্রের তাড়া করা ট্যাংকারের সুরক্ষায় সাবমেরিন পাঠালো রাশিয়া
  • আজ বৃহস্পতিবার, ২৪ পৌষ, ১৪৩২ | ৮ জানুয়ারি, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    ফেলানী হত্যার ১৫ বছর, এখনো ন্যায় বিচারের আশায় পরিবার

    অনিল চন্দ্র রায়, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি প্রকাশ: ৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম
    অনিল চন্দ্র রায়, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি প্রকাশ: ৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম

    ফেলানী হত্যার ১৫ বছর, এখনো ন্যায় বিচারের আশায় পরিবার

    অনিল চন্দ্র রায়, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি প্রকাশ: ৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম

    আগামীকাল বুধবার (৭ জানুয়ারি) পূর্ণ হবে ফেলানী হত্যার ১৫ বছর। ২০১১ সালের এই দিনে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী অনন্তপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ-র গুলিতে নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার হয় ফেলানী। এ ঘটনায় বিশ্বের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে ভারত।

    পরে ভারতে বিএসএফ এর বিশেষ কোর্টে দুই দফায় বিচারীক রায়ে খালাস দেয়া হয় অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে। এ রায় প্রত্যাক্ষান করে ভারতীয় মানবাধীকার সংগঠন মাসুম এর সহযোগিতায় ভারতীয় সুপ্রিমকোর্টে রিট আবেদন করে ফেলানীর পরিবার। তবে ১৪ বছর পার হয়ে ১৫ বছর পূর্ণ হলেও এখনো কিশোরী ফেলানি হত্যার বিচার পায়নি তার পরিবার।

    কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের কলোনীটারী গ্রামের নূরুল ইসলাম পরিবার নিয়ে থাকতেন ভারতের বঙ্গাইগাও এলাকায়।

    নূরুল ইসলামের বড় মেয়ে ফেলানীর বিয়ে ঠিক হয় বাংলাদেশে। বিয়ের উদ্দেশে নিজ দেশে ভারতের কাটাতার টপকে আসতে হবে তাদের। 

    ৭ জানুয়ারী শুক্রবার। ভোর ৬টা ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে মই বেয়ে কাটাতার টপকানোর চেষ্টা করে ফেলানী। এসময় ভারতীয় বিএসএফ’র গুলিতে বিদ্ধ হয় সে। গুলি বিদ্ধ হয়ে আধাঘন্টা ধরে ছটফট করে নির্মমভাবে মৃত্যু হয় কিশোরী ফেলানীর। এর পর সকাল পৌনে ৭টার থেকে নিথর দেহ কাঁটাতাঁরে ঝুলে থাকে দীর্ঘ সাড়ে ৪ ঘন্টা। 

    ২০১৩ সালের ১৩ আগষ্ট ভারতের কোচবিহারে জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস কোর্টে ফেলানী হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়। বিএসএফ এর এ কোর্টে স্বাক্ষী দেন ফেলানীর বাবা নূর ইসলাম ও মামা হানিফ। 

    একই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর আসামী অমিয় ঘোষকে খালাস দেয় বিএসএফ এর বিশেষ কোর্ট। পরে রায় প্রত্যাক্ষান করে পুনঃবিচারের দাবী জানায় ফেলানীর বাবা। ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পূর্ন:বিচার শুরু হলে ১৭ নভেম্বর আবারও আদালতে স্বাক্ষ্য দেন ফেলানীর বাবা।

    ২০১৫ সালের ০২ জুলাই এ আদালত পুনরায় আত্মস্বীকৃত আসামী অমিয় ঘোষকে খালাস দেয়। রায়ের পরে একই বছর ১৪ জুলাই ভারতের মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ (মাসুম) ফেলানীর বাবার পক্ষে দেশটির সুপ্রীম কোর্টে রিট পিটিশন করে। ওই বছর ৬ অক্টোবর রিট শুনানি শুরু হয়। 

    ২০১৬, ২০১৭ এবং ২০১৮  সালে কয়েক দফা শুনানি পিছিয়ে যায়। পরে ২০২০ সালের ১৮ মার্চ করোনা শুরুর আগে শুনানির দিন ধার্য হলেও শুনানি হয়নি এখনো। রিটের সর্বশেষ খবরও নেই ফেলানীর পরিবারের কাছে। 

    কিশোরী ফেলানীর মা জাহানারা বেগম বলেন, ‘বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষ আমার মেয়েকে পাখীর মতো গুলি করে হত্যা করেছে। কত রক্ত যে পড়েছে দুই দেশের মাটিতে। ১৫টা বছর হয়ে গেল ফেলানী হত্যার বিচার পেলাম না। বিচারের অপেক্ষায় এখনো আছি।’

    এদিকে মেয়ের হত্যাকারীর বিচার না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করে ফেলানীর বাবা নূরুল ইসলাম বলেন, ‘ফেলানী হত্যার ১৪ বছর পার হয়ে ১৫ বছরে পরলেও বিচার পেলাম না। ভারতীয় সুপ্রিমকোর্টে বিচারটা নিয়া গেলাম, কয়েকবার শুনানীর তারিখ দিলেও তা পিছিয়ে গেছে।’ 

    কান্নাবিজরিত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘এখন তো আর কোন খবর পাইনা। আমার মেয়ে ফেলানীর বিচার হলে সীমান্তে আর মানুষ মরত না। আমি সরকারের কাছে দাবী জানাচ্ছি ফেলানী হত্যার বিচারটা যেন করে। মরার আগে আমি বিচারটা দেখে যেতে চাই।’

    রিটপিটিশন ছাড়াও ২০১৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ফেলানী হত্যা ঘটনায় স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বিচার এবং ক্ষতিপূরণ আদায়ে ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম ১ম ও বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি এ্যাডভোকেট সালমা আলী ২য় বাদী হয়ে আইন ও বিচার বিষয়ক মন্ত্রনালয় (ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া) এর সচিব এবং বিএসএফ এর মহাপরিচালককে বিবাদী করে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট নয়াদিল্লীতে ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২ অনুযায়ী একটি ফৌজদারী মামলা করেন। 

    তারা ২০১৫ সালের ২১ জুলাই ফেলানীর বাবার জন্য অন্তবর্তীকালীন ক্ষতিপূরন চেয়ে আরও একটি আবেদন করেন।

    এ বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি মানবাধিকার কর্মী এ্যাডভোকেট সালমা আলী মুঠোফোনে জানান, ‘মামলাটি ভারতের সুপ্রিমকের্টে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে।’

    এ প্রসঙ্গে কুড়িগ্রামের আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাডভোকেট ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘ফেলানী হত্যার বিচার ভারতের আন্তরিকতার অভাবে হচ্ছে না। বিচারটা হলে সীমান্ত হত্যা কমে আসতো। ভারতের উচিৎ ফেলানী হত্যার বিচার ঝুলিয়ে না রেখে নিস্পত্তি করা।’

    আরডি

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    চলতি সপ্তাহে সর্বাধিক পঠিত

    Loading…