এইমাত্র
  • মোংলা বন্দরের শ্রমিকদের ২৬% মজুরি বৃদ্ধি
  • আকাশসীমা বন্ধ করল ইরান
  • ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের কথা ভাবতে হবে: রিজওয়ানা হাসান
  • যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার মধ্যে ইরানকে যে বার্তা দিলো সৌদি
  • পে-স্কেল নিয়ে আজ ফের বৈঠকে বসবে পে-কমিশন
  • নাজমুল ইসলাম পদত্যাগ না করলে খেলা বয়কটের ঘোষণা ক্রিকেটারদের
  • ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা-মৃত্যুদণ্ড বন্ধ হয়েছে, দাবি ট্রাম্পের
  • বিমানের পরিচালনা পর্ষদে নিয়োগ পেলেন ফয়েজ তৈয়্যবসহ ৩ জন
  • আগামী সপ্তাহ থেকেই বাংলাদেশ-পাকিস্তানসহ ৭৫ দেশের জন্য মার্কিন ভিসা স্থগিত
  • শিক্ষানবিশ ৯৬ এএসপিকে বদলি
  • আজ বৃহস্পতিবার, ২ মাঘ, ১৪৩২ | ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬
    কৃষি ও প্রকৃতি

    বরগুনায় শিমের রাজ্যে 'মোজাইক' ভাইরাসের হানা, চাষিদের মাথায় হাত

    মো. মোস্তাফিজ, তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি প্রকাশ: ৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৩ এএম
    মো. মোস্তাফিজ, তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি প্রকাশ: ৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৩ এএম

    বরগুনায় শিমের রাজ্যে 'মোজাইক' ভাইরাসের হানা, চাষিদের মাথায় হাত

    মো. মোস্তাফিজ, তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি প্রকাশ: ৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৩ এএম

    এক একর জমিতে আগাম শিম আবাদ করেছিলেন কৃষক আব্দুল মন্নান ফকির। খরচ হয়েছিল প্রায় দেড় লাখ টাকা। গাছগুলো ফুলে ফুলে ভরে উঠেছিল, কিছু গাছে শিম ধরতেও শুরু করেছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই ‘মোজাইক’ নামের ভাইরাসের আক্রমণে শিমগাছের পাতা, ফুল ও শিম হলুদ হয়ে যেতে শুরু করে। ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায় পুরো ক্ষেত।

    ভাইরাসে আক্রান্ত শিমগাছ ছিঁড়তে ছিঁড়তে আব্দুল মন্নান ফকির বলেন, ‘প্রতিবছর এই জমি থেকেই যে লাভ হতো, তা দিয়েই আমার সংসার চলত। কিন্তু এ বছর প্রায় সব ক্ষেতেই ভাইরাসের আক্রমণ হয়েছে। শিমের পাতা সব হলুদ হয়ে গেছে। এখন আমাদের সবারই মাথায় হাত।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমার নিজের কোনো জমি নেই। লাভের আশায় এক একর জমি বন্দোবস্ত নিয়ে শিম চাষ করেছিলাম। কিন্তু সব গাছ ভাইরাসে হলুদ হয়ে মারা যাচ্ছে। এখন জমির মালিককে কী দেব, আর নিজে কী নিয়ে চলব—কিছুই বুঝতে পারছি না। সরকারের কাছে বাঁচার জন্য সাহায্য চাই।’

    আব্দুল মন্নান ফকির বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার সওদাগারপাড়া সবজি পল্লী এলাকার বাসিন্দা। শুধু তার একার নয়, একই অবস্থা ওই এলাকার অন্তত তিন শতাধিক কৃষকের। চলতি মৌসুমে অন্তত সাত কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন শিম চাষিরা।

    কৃষকদের অভিযোগ, সময়মতো কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা না পাওয়ায় চলতি মৌসুমে তারা আরও বড় ধরনের ক্ষতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে বেশি শিম চাষ হয় বরগুনার তালতলী উপজেলার সওদাগারপাড়া গ্রামে। প্রতিবছর জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছয় থেকে সাত কোটি টাকার শিম বিক্রি করেন এ এলাকার কৃষকেরা। চলতি বছর সমবায় পদ্ধতিতে প্রায় ২২ একর জমিতে শিম আবাদ করা হয়। কিন্তু ‘মোজাইক’ ভাইরাসের আক্রমণে গাছের পাতা, ফুল ও শিম হলুদ হয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    সওদাগারপাড়া এলাকার আরেক কৃষক সেলিম মিয়া বলেন, ‘আমাদের এলাকার অধিকাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। এখানকার উৎপাদিত সবজি দেশের বিভিন্ন জেলায় যায়। কিন্তু এ বছর তা সম্ভব হবে না। ভাইরাস দেখা দেওয়ার পর নিজেদের টাকায় সার ও ওষুধ কিনে প্রয়োগ করেছি। সরকারিভাবে সহযোগিতার কথা শুনলেও এখনো কোনো সহায়তা পাইনি। আমার জমিতে প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু গাছের যে অবস্থা, তাতে ১৫ হাজার টাকার শিম বিক্রি করতে পারব কি না, সেটাই সন্দেহ।’

    কৃষক জসিম শিকদার বলেন, ‘প্রতিবছর এই গ্রামে শিম থেকে কোটি টাকার বাণিজ্য হতো। কিন্তু এ বছর পুরো গ্রামেই অজানা এক ভাইরাসে শিমগাছ আক্রান্ত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আমরা সবাই পথে বসার উপক্রম।’

    আরেক কৃষক মো. নাসির বলেন, ‘প্রতিবছর আমাদের শিম দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি হয়। কিন্তু এ বছর ভাইরাসের আক্রমণে সব শেষ। শিম চাষে যে টাকা খরচ হয়েছে, তার অর্ধেকও তুলতে পারব না। কৃষিতে এবার আমরা বড় লোকসানের মুখে পড়েছি।’

    এ বিষয়ে বরগুনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রথীন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, ‘সবজি পল্লী এলাকার কৃষকেরা প্রতিবছর কয়েক কোটি টাকার সবজি উৎপাদন করেন। এ বছর শিমগাছ হলুদ হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উপসহকারী ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, “মোজাইক” ভাইরাসের আক্রমণেই গাছগুলো আক্রান্ত হয়েছে। নিশ্চিত হতে নমুনা সংগ্রহ করে পটুয়াখালী কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিবছর একই জমিতে একই ধরনের সবজি চাষ থেকে বিরত থাকতে হবে। বারবার একই ফসল করলে ভাইরাস আক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। এক বছর যে সবজি চাষ করা হবে, পরের বছর তা বাদ দিয়ে অন্য সবজি চাষ করলে ভাইরাসের আক্রমণ কমানো সম্ভব। সরকারিভাবে প্রণোদনা পাওয়া গেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা করা হবে।’

    ইখা

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    Loading…