কক্সবাজারের টেকনাফে গভীর সাগরে মাছ শিকারে গিয়ে একটি ফিশিং ট্রলারের মাঝিমাল্লাদের এক জালে আটকা পড়েছে বিপুল পরিমাণ রাঙ্গা কৈ মাছ।
তথ্য নিয়ে জানা যায়, গত ৩ জানুয়ারি (শনিবার) সকালের দিকে শাহপরীর দ্বীপের মিস্ত্রিপাড়া ফিশিং ঘাট থেকে একই এলাকার জনৈক আবুল কালামের মালিকানাধীন একটি ফিশিং ট্রলার মাঝিমাল্লাসহ সাগরে মাছ শিকার করার উদ্দেশে রওনা দেয়।
এরপর ৭ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) গভীর রাতের দিকে সেন্টমার্টিন থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ৩০ নটিক্যাল মাইল দূরে গভীর সাগরে ফেলে রাখা এক জালেই আটকা পড়ে বিপুল পরিমাণ মাছ।
মাছভর্তি জালটি টেনে ফিশিং ট্রলারে তোলার পর এক এক করে ৬৭০টি রাঙ্গা কৈ মাছ পাওয়া যায়। এরপর মাথাভর্তি ফিশিং ট্রলারটি বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকালের দিকে শাহপরীরদ্বীপ ফিশিং ঘাটে পৌঁছলে মাছ গুলো ক্রয় করার জন্য ব্যবসায়ীরা ঘাটে ভিড় জমায়।
এবিষয়ে ফিশিং ট্রলারের মালিক আবুল কালাম স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের জানিয়েছেন, তার জালে আটকা পড়া ৬৭০টি রাঙ্গা কৈ মাছ প্রতিমণ ২৮ হাজার টাকা করে বিক্রি হয়েছে। সর্বমোট ওজন হয়েছে ৩৪ মন।
মৌলভী আইয়ুব নামে স্থানীয় এক মাছ ব্যবসায়ী আবুল কালামের কাছ থেকে বেশি টাকা মুনাফা করার আশায় মাছ গুলো ক্রয় করে নিয়েছেন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা উম্মুল ফারা বেগম তাসকিরা সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, জেলের জালে ধরা পড়া মাছ গুলোকে স্থানীয়ভাবে কেউ বলছেন লাল কোরাল, তবে রাঙ্গা কৈ মাছ হিসেবে পরিচিত বেশি।
ইংরেজিতে এই মাছটিকে Johan’s snapper, বৈজ্ঞানিকরা এই মাছটির নাম দিয়েছেন (Lutjanus johni) সাগরে অন্যান্য মাছের মধ্যে এটি খুবেই গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতির মাছ।
সরকারি বিধি নিষেধ মেনে জেলেরা সাগরে মাছ আহরণ করলে বিভিন্ন প্রজাতির বড় বড় মাছ শিকার করতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি জেলেরা সল্প সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করতে পারবে বলেও জানান তিনি।
এসআর