ইতালিতে হঠাৎ করেই তীব্র শীত নেমে এসেছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা শূন্যের নিচে নেমে যাওয়ায় কোথাও কোথাও তুষারপাত শুরু হয়েছে। প্রচণ্ড ঠান্ডা ও বরফে ঢেকে যাওয়ায় স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষ করে উত্তর ইতালির মিলান, লম্বার্ডি ও আশপাশের এলাকায় শীতের প্রকোপ বেশি। এসব অঞ্চলে তাপমাত্রা মাইনাস ডিগ্রিতে নেমে যাওয়ায় রাস্তাঘাটে বরফ জমেছে, ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। অনেক এলাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ‘ইয়েলো জোন’ ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
তীব্র শীতের কারণে অনেক রেস্তোরাঁ, দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে দিনমজুর ও খণ্ডকালীন কর্মজীবীদের আয়-রোজগারেও প্রভাব পড়ছে। ঠান্ডা ও তুষারের কারণে কর্মস্থলে পৌঁছাতে না পারায় বিপাকে পড়েছেন অনেক মানুষ। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বিশেষ করে মিলান ও আশপাশের এলাকায় যেসব বাংলাদেশি খোলা জায়গায় বা অস্থায়ীভাবে বসবাস করতেন, তাঁদের জন্য শীত পরিস্থিতি চরম কষ্টকর হয়ে উঠেছে। প্রচণ্ড ঠান্ডা, তুষারপাত ও পর্যাপ্ত গরম কাপড়ের অভাবে অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
প্রবাসীদের অভিযোগ, তীব্র শীতে খোলা আকাশের নিচে থাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, বাড়ছে শীতজনিত রোগের আশঙ্কা। সামাজিক সংগঠন ও প্রবাসী কমিউনিটির পক্ষ থেকে জরুরি সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হচ্ছে।
আবহাওয়া পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আরও কয়েক দিন এই শীত পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। এ অবস্থায় ইতালির স্থানীয় প্রশাসন নাগরিকদের অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে না বের হওয়ার এবং শীত মোকাবিলায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
ইখা