প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালে গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে মোট ৫১ জন পরীক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, এটিএম কার্ডসহ ৪৭টি বিশেষ ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করা হয়। আটকদের মধ্যে ১৭ জন নারী পরীক্ষার্থী।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলা পরীক্ষাকালীন গাইবান্ধা সদর, পলাশবাড়ী ও ফুলছড়ি উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে অভিযুক্তদের আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদের স্ব-স্ব থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পরীক্ষাকালে কেন্দ্রের নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা পুলিশ, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা সদর উপজেলার ১১টি কেন্দ্রে ৩৭ জন, পলাশবাড়ীর ৪টি কেন্দ্রে ১২ জন এবং ফুলছড়ি উপজেলার একটি কেন্দ্রে ২ জন পরীক্ষার্থীকে আটক করেন।
জেলার সাত উপজেলায় ৪০০টির বেশি শূন্য পদের বিপরীতে মোট ২৭ হাজার ৬৮৮ জন পরীক্ষার্থী আবেদন করলেও পরীক্ষায় উপস্থিত ছিলেন ২২ হাজার ১৯৭ জন।
রাত ৮টার দিকে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মুত্তাজুল ইসলাম।
তিনি বলেন, 'পরীক্ষা চলাকালে প্রবেশ গেটে তল্লাশি, হল রুমে ডিভাইস ব্যবহার, মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে উত্তর আদান–প্রদান এবং অনেকে হাতের ব্যাটারি ও কানের ভেতর গোপনে ডিভাইস রাখার অভিযোগে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে মোট ৫১ জন পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'আটকদের থানায় হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে। এছাড়া আটক পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনো চক্র জড়িত ছিল কি না, তা শনাক্তে তদন্ত চালানো হবে।'
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ কে এম হেদায়েতুল ইসলাম বলেন, 'বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রে অসদুপায় অবলম্বন ও নিষিদ্ধ ডিভাইস বহনের অভিযোগে মোট ৫১ জন পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। এসময় তাদের কাছ থেকে ৪৭টি ডিজিটাল ডিভাইস ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
এদিকে নিয়োগ পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত করতে জেলা প্রশাসন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা জানান, প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি ছিল। ফলে শুরু থেকেই প্রতিটি কেন্দ্রে কঠোর নজরদারি ও পরীক্ষার্থীদের প্রবেশের সময় তল্লাশি চালানো হয়, এবং পরীক্ষা চলাকালেই অভিযুক্তদের আটক করা হয়।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষার্থীদের জন্য গাইবান্ধা সদর ও পলাশবাড়ী উপজেলায় মোট ৪৩টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তবে অনুপস্থিত ছিলেন মোট ৫ হাজার ৫৩১ জন পরীক্ষার্থী।
এফএস