চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বিএনপির প্রার্থী মো.আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বৈধতার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনারে পৃথকভাবে আবেদন করেছে দুই ব্যাংকসহ একই আসনের জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী। ব্যাংক দুটি হল, ব্যাংক এশিয়া পিএলসি ও ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি। রোববার নির্বাচনী কমিশনারের ওয়েবসাইটে এই তথ্য দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনারে এ শুনানী হবে আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার।
গত ৩ জানুয়ারি চট্টগ্রাম রিটানিং অফিস কার্যালয়ে যাচাই বাচাই শেষে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। মনোনয়ন বহাল রাখতে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ১৩টি ব্যাংকে ৫০ কোটি টাকা প্রদান করতে হবে। খেলাপি পরিচয়ের ওপর স্থগিতাদেশ দিতে আদালত এমন শর্ত জুড়ে দিয়েছিল বলে জানান একই আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আনোয়ার ছিদ্দিকী। তবে এমন কোনো শর্ত দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন আসলাম চৌধুরী। তার মনোনয়নপত্র বাতিল করতে একটি পক্ষের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এ কাজটি করা হয়েছে বলে বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করেন। তবে এ বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরে আনতে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীর একটি অংশ তৎপর রয়েছে ঢাকাতে।
নির্বাচন কমিশনারের তথ্যানুসারে, ৫৩৪ ক্রমানুরে আপিল নং ৫৩৪/২৬। ব্যাংক এশিয়া পিএলসি ঢাকা করপোরেট অফিসের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মনোনয়ন বৈধতার বিরুদ্ধে আপিল করেন। ব্যাংকটির ঠিকানা দেওয়া হয় ৩২ এবং ৩৪ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ কাউরান বাজার, ঢাকা।
ব্যাংকের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মুঠোফোনে বলেন, ১৮ কোটি ১৯ লক্ষ টাকা ব্যাংক পাওনা রয়েছে। তিনি একজন ব্যাংকের ঋণখেলাপি গ্রাহক। তবে খেলাপি পরিচয়ের ওপর উচ্চ স্থগিতাদেশ দিতে আদালত এমন শর্ত জুড়ে দিয়েছিল জানেন না বলে জানান তিনি।
একই অভিযোগে আপিল করেছেন ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি। আপিল নং ৪১১/২৬। ব্যাংকের ঠিকানা দেওয়া হয় স্বাধীনতা টাওয়ার, বীরশ্রেষ্ট শহীদ জাহাঙ্গীর গেইট, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট।
ব্যাংকের প্রতিনিধি আবদুল হাকিম বলেন,ব্যাংকের প্রতিনিধি হিসাবে আপিল করেছি। আপিলের আর্জিতে বিস্তারিত লেখা আছে। বিস্তারিত জানতে ব্যাংকে যেতে বলেন তিনি।
জানা যায়, ঋণখেলাপি হিসেবে তালিকাভুক্ত না হতে আসলাম চৌধুরী হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। এ আবেদনে তিনি জামিনদার হওয়া ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ঋণের দায় নিজের নয় বলে দাবি করেন। আদালত ১ ডিসেম্বর এটির ওপর রায় দেন। আদালতের ওই রায়ে বলা হয়- আবেদনকারীদের নাম বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) রিপোর্টে ডিফল্টার হিসেবে অন্তর্ভুক্তি আপাতত স্থগিত থাকবে। তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ৫০ কোটি টাকা পরিশোধ করে তার প্রমাণ হিসেবে শর্ত পালনের হলফনামা দাখিল করতে হবে। সময়সীমার মধ্যে অর্থ পরিশোধ করতে না পারলে আলাদা কোনো আদেশ ছাড়াই স্থগিতাদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
এ হিসেবে আসলাম চৌধুরীকে ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ঋণের দুই শতাংশ অর্থাৎ, প্রায় ৫০ কোটি টাকা ৩১ জানুয়ারির মধ্যে দিতে হবে বলে দাবি করছেন জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীর অনুসারীরা।
জামায়াত প্রার্থী আনোয়ার ছিদ্দিকী বলেন, ঋণফেলাপীর বিষয় নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকা সংবাদ প্রকাশ করেছে। নানা তথ্য পাওয়ার পর মনোনয়ন বৈধতার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনারে আপিল করেছি। ওনি যদি ঋণখেলাপী না হন নির্বাচন করবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে টাকা দেওয়ার শর্তে কোনো রায় দেওয়া হয়নি বলে দাবি করে গত বুধবার তার প্রেস উইং কর্মকর্তা আবু তাহের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী হাইকোর্ট কর্তৃক আরোপিত শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন- এমন তথ্য সম্পূর্ণ ভুল, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর, উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে আদালত বা নির্বাচন কমিশন কোনো পক্ষই মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে টাকা দেওয়ার কোন- শর্ত বা আদেশ প্রদান করেনি। মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি রিপোর্টে তার নাম ঋণখেলাপি হিসাবে অন্তর্ভুক্ত না করার জন্য মহামান্য আদালতে রিট পিটিশন নং-২০১৩২/২০২৫ দায়ের করেন। আদালত রিট পিটিশন শুনানি শেষে সন্তুষ্ট হয়ে ঋণখেলাপি হিসাবে সিআইবি রিপোর্টে খেলাপি হিসাবে নাম প্রকাশের ওপরে ২ মাসের স্থগিতাদেশ প্রদান করেন। সেখানে কোথাও মনোনয়ন বা নির্বাচন-সংক্রান্ত কোনো বিষয় ছিল না। কিন্তু উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বা কারও দ্বারা প্ররোচিত হয়ে একটি পক্ষ ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার করছে।
এসআর