এইমাত্র
  • টাঙ্গাইল জেলা যুবদলের সদস্যসচিব বাবুকে বহিস্কার
  • বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ আইসিসির, অনড় বিসিবি
  • ক্রিকেটকে বিদায় বললেন ৮ বিশ্বকাপজয়ী অজি অধিনায়ক
  • প্লট দুর্নীতি: শেখ হাসিনা, টিউলিপসহ ১৮ জনের রায় ২ ফেব্রুয়ারি
  • আইসিসির কার্যক্রম বন্ধ করতে বললেন পাকিস্তানের সাবেক তারকা স্পিনার
  • ‘ডার্বি’ জিতে পিএসজিকে বিদায় করলো প্যারিস এফসি
  • নেদারল্যান্ডসের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা
  • বিশ্বকাপে নিরাপত্তা নিয়ে বিসিবিকে পাঠানো আইসিসির চিঠিতে যা বলা হয়েছে
  • প্রবাসীদের জন্য চালু হচ্ছে শরীয়াভিত্তিক ঋণ প্রদান কার্যক্রম: আসিফ নজরুল
  • ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পে স্কেল নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি’
  • আজ মঙ্গলবার, ৩০ পৌষ, ১৪৩২ | ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬
    খেলা

    বিশ্বকাপে নিরাপত্তা নিয়ে বিসিবিকে পাঠানো আইসিসির চিঠিতে যা বলা হয়েছে

    বিবিসি বাংলা প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৪৭ পিএম
    বিবিসি বাংলা প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৪৭ পিএম

    বিশ্বকাপে নিরাপত্তা নিয়ে বিসিবিকে পাঠানো আইসিসির চিঠিতে যা বলা হয়েছে

    বিবিসি বাংলা প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৪৭ পিএম

    আইপিএল থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে নিরাপত্তাজনিত কারণে বাদ দেওয়ার ঘটনার পর ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বাংলাদেশ দলের ভারত সফরকে ঘিরে সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি)।

    আইসিসির নিরাপত্তা বিভাগের পাঠানো ওই চিঠিতে চারটি আলাদা বিষয়ের আলোকে ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। চিঠিটি সম্প্রতি গণমাধ্যমের হাতে এসেছে।

    যা রয়েছে আইসিসির মেইলে

    মেইলের শুরুতে ৩ জানুয়ারি মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দিতে বিসিসিআইয়ের নির্দেশনা, নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ভারতের বদলে শ্রীলঙ্কায় খেলতে চাওয়ার দাবি এবং মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার ইস্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধ করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

    এরপর চারটি বিষয়ে আলাদা করে বাংলাদেশ দলের ভারত সফরের ঝুঁকির মূল্যায়ন করা হয়েছে।

    ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফো তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে এই ‘রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট’ আইসিসির সার্বজনীন একটি ‘স্ট্যান্ডার্ড ক্যাটাগোরাইজেশন’ বা আদর্শ শ্রেণিবিন্যাস, যেখানে সাধারণত খেলার ভেন্যু পরিবর্তনের জন্য যথেষ্ট কারণ উল্লিখিত থাকে না।

    ১. মোস্তাফিজ ইস্যু

    ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনের ঝুঁকি পর্যালোচনা সম্পন্ন হয়েছে ডিসেম্বরে এবং পুরো আসর ঘিরে ঝুঁকির মাত্রা ‘মডারেট’ বা মাঝারি মাত্রার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশের জন্য এই ঝুঁকির মাত্রা ‘মডারেট টু হাই’বা মাঝারি থেকে উচ্চ মাত্রার বলে জানানো হয়েছে মেইলে।

    অর্থাৎ, অন্যান্য দলের জন্য ঝুঁকির মাত্রা মাঝারি হলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা মাঝারি থেকে উচ্চ মাত্রার বলে উঠে আসে ওই মূল্যায়নে।

    সেই প্রাথমিক মূল্যায়নের পর বাংলাদেশ দলের ঝুঁকির মাত্রা নির্ধারণ করতে আরেক দফায় ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়, যেখানে বাংলাদেশ দলের জন্যও মাঝারি মাত্রার ঝুঁকি রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    তবে এর সঙ্গে যোগ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশ দলের সঙ্গে মুস্তাফিজের উপস্থিতি সমস্যার কারণ হতে পারে যদি ‘ধর্মীয় উগ্রপন্থার বিষয়টি জড়িত হয়।’

    ২. বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা ইস্যু

    বেঙ্গালুরুতে ওয়ার্ম আপ ম্যাচের পাশাপাশি কোলকাতায় তিনটি ও মুম্বাইয়ে একটি গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে বাংলাদেশের।

    ম্যাচের সময় ও প্রতিপক্ষ বিবেচনায় এসব ম্যাচে বাংলাদেশ দলের ঝুঁকি ‘মিডিয়াম-লো’ বা মাঝারি থেকে কম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    সেখানে ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের একজন কর্মকর্তা সি ভি মুরালিধরের একটি মূল্যায়নের উল্লেখও করা হয়েছে, যেখানে তিনি বলেছেন যে সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর প্রেক্ষিতে ঝুঁকির মূল্যায়ন পরিবর্তন হয়নি এবং তিনি আত্মবিশ্বাসী যে এমন কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হবে না যা আসরের বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী নিরসন করা যাবে না।

    ৩. সমর্থকদের নিরাপত্তা ইস্যু

    ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ইতিহাস ও নিশ্চয়তার ভিত্তিতে মেইলে উল্লেখ করা হয়েছে যে বাংলাদেশ দল বা অন্য কোনো অংশগ্রহণকারী দল কোলকাতা বা মুম্বাইয়ে বড় ধরনের সহিংসতার শিকার হবে বা হঠাৎ তাদের জন্য ঝুঁকির মাত্রা বৃদ্ধি পাবে, এমন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। এই দুই ভেন্যুর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দলের ঝুঁকি মাঝারি মাত্রার বলে উল্লেখ করা হয়েছে মেইলে।

    তবে এই দুই জায়গায় বাংলাদেশি সমর্থকদের - বিশেষ করে যারা দলের জার্সি পরে বা আলাদা ছোট দলে স্টেডিয়ামে যাবেন - ঝুঁকির মাত্রা মাঝারি থেকে উচ্চ পর্যায়ের বলে উঠে এসেছে বিশ্লেষণে।

    পাশাপাশি, বিশ্বকাপ আসর ঘিরে যদি কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটে তাহলে তা আশেপাশের বড় এলাকা জুড়ে সহিংসতা ও বিক্ষোভ তৈরি করতে পারে।

    ওই প্রতিবেদনে উদাহরণ হিসাবে উল্লেখ করা হয় যে মসজিদ পোড়ানো, বড় ধরনের দাঙ্গা বা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের হত্যার মত ঘটনা দুই দেশের কোনো একটি দেশে ঘটলে উত্তেজনা বাড়তে পারে এবং তা দলের জন্য ঝুঁকির মাত্রা বৃদ্ধি করবে।

    এই ধরনের ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কম থাকলেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে উঠে এসেছে মেইলে।

    ৪. বাংলাদেশের নির্বাচন ইস্যু

    ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের রেশ– বিশেষ করে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে পুরো অঞ্চলে 'শর্ট টু মিডিয়াম টার্মে' বা স্বল্প থেকে মাঝারি সময়কাল পর্যন্ত প্রভাব ফেলতে পারে বলে বলা হয়েছে আইসিসির ঝুঁকি পর্যালোচনা প্রতিবেদনে।

    তবে এই মুহূর্তে এই উত্তেজনা খেলার ভেন্যু বা খেলোয়াড়দের প্রতি সহিংসতায় পরিণত হবে না বলে উঠে এসেছে মেইলে।

    বাংলাদেশ দলের ও খেলোয়াড়দের প্রতি ঝুঁকি এই ক্ষেত্রে মাঝারি বলেই উঠে এসেছে ওই প্রতিবেদনে।

    তবে এই ক্ষেত্রে নির্ধারিত ভেন্যুগুলোতে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা পরিকল্পনার বিষয়ের ‘ফুল রিভিউ’ বা সম্পূর্ণ পর্যালোচনা করার বিষয়টিও উঠে এসেছে অ্যাসেসমেন্টে।

    মেইলের শেষাংশে উল্লেখ করা হয়েছে যে কৌশলগত নিরাপত্তা পরিকল্পনা এখন দুই বোর্ডের দুজন স্বাধীন নিরাপত্তা ব্যবস্থাপকের কাছে পর্যালোচনার জন্য রয়েছে।

    শেষ লাইনে বিসিবির নিরাপত্তা উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে যে এই বিষয়ে তার মূল্যায়ন ও মন্তব্যকে স্বাগত জানানো হবে যেন বিসিবির দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো ঝুঁকি বা উদ্বেগ থাকলে তা সমন্বিতভাবে নিরসন করা যায়।

    আরডি

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    Loading…