উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় শীতের তীব্রতা কিছুটা কম। দিনের বেলায় রোদের উপস্থিতিতে স্বস্তি পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেঁতুলিয়াতে রেকর্ড হয়েছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৬টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল ৯টায় তা আরও কমে দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আজও এটি ছিল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
এর আগের দিন সোমবার সকাল ৬টায় তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সকাল ৯টায় ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা সেদিনও দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হিসেবে রেকর্ড হয়। সোমবার বিকাল ৩টায় জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যেখানে তার আগের দিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা বিরাজ করলেও সকাল ৮টার আগেই কুয়াশা কেটে চারপাশ পরিষ্কার হয়ে যায়। এরপর সূর্যের দেখা মেলে। টানা পাঁচ দিন ধরে তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হলেও নিয়মিত রোদের কারণে দিনের বেলায় শীতের তীব্রতা কম অনুভূত হচ্ছে। সোমবার ও মঙ্গলবার সূর্যের তেজ অন্য দিনের তুলনায় বেশি ছিল।
তবে শীতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে খেটে খাওয়া মানুষের ওপর। নদী থেকে বালু ও পাথর উত্তোলনকারী শ্রমিকদের হাত-পা ঠান্ডায় অবশ হয়ে আসছে। এদিকে হাসপাতালগুলোতে শীতজনিত সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কিছুটা কমেছে। শিশু ও বৃদ্ধরা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে বেশি ভর্তি হচ্ছেন। অতিরিক্ত শীতের কারণে শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়ার প্রকোপও দেখা গেলেও এখন আক্রান্তের সংখ্যা কমে এসেছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জীতেন্দ্রনাথ রায় জানান, তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হলেও দিনের বেলায় রোদের উপস্থিতি থাকায় মানুষ স্বস্তি পাচ্ছে। তিনি বলেন, জানুয়ারি মাসজুড়েই তাপমাত্রার এই ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে।
এসআর