শসা একটি সহজলভ্য এবং পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ সবজি যেটি বছরের সবসময় পাওয়া যায়। শসা বিভিন্নভাবে শরীরের উপকার করে। নিয়মিত শসা খেলে শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে এবং বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ হয়। শসা দিয়ে তৈরি করা সালাদ হলো একটি সহজ নাস্তা। স্বাস্থ্যকর এবং হালকা স্বাদের হওয়ায় ছোট থেকে বয়স্ক সকল বয়সী মানুষের কাছে পছন্দের। শসা মূলত সালাদ ছাড়াও কাঁচা খাওয়া হয়, এটি রান্নার করারও প্রয়োজন হয় না। এমন কি গরমকালের জন্য শসা খুব দুর্দান্ত।
ব্যাপক জনপ্রিয়তার পাশাপাশি শশার রয়েছে নানান উপকারীতা। কেননা শসা শরীরকে আর্দ্র রাখে, ভিটামিন ও খনিজ সরবরাহ করা, ত্বক ও হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। শসাতে প্রচুর পানি ও ফাইবার থাকায় এটি শরীরকে সতেজ রাখতে এবং ডিটক্সিফাই করতেও সাহায্য করে। শসার রস, শসার ডিটক্স পানীয় বা শসার স্যালাড— সবেরই আলাদা আলাদা উপকারিতা থাকায় আমাদের উচিত প্রত্যেক বেলা খাবার খাওয়ার পরই শসা খাওয়া।
পুষ্টি উপাদান: ১০০ গ্রাম শসা থেকে পাওয়া যায়, ক্যালরি - ১৫.৫ গ্রাম, প্রোটিন - ০.৬৪ গ্রাম, কার্বহাইড্রেট- ৩.৭৮ গ্রাম, ফ্যাট - ০.১১ গ্রাম, ডায়াটারি ফাইবার - ০.৬২ গ্রাম, মনোস্যাকারাইড - ১.৭০ গ্রাম।
এ সব উপাদান ছাড়া ও রয়েছে দেহের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ উপাদান ও প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট।
শসা খাওয়ার উপকারিতা: হাইড্রেটেড রাখে: শসার প্রায় ৯৫ শতাংশই পানি হওয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে আপনার শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে গরমের পরে শসা খাওয়া বেশিরভাগ এনার্জি ড্রিংকের চেয়েও বেশি কার্যকর হতে পারে।
হজমের জন্য উপকারী: শসাতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে যা হজম এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। শসা খাওয়ার পর পরই এটি হজম এবং অন্ত্রকে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে।
ওজন কমাতে সাহায্য করে: শসায় ক্যালোরি কম এবং পুষ্টিগুণ বেশি থাকায় ওজন কমাতে কার্যকর। পাশাপাশি শসা আপনার ক্ষুধা কমাতেও সাহায্য করে।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ: শসা একটি চিনি-মুক্ত খাবার হওয়ায় ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে: শসায় ভিটামিন এ থাকায় দৃষ্টিশক্তির এবং দৃষ্টিশক্তির সমস্যা প্রতিরোধের জন্যে উপকারী। শসায় প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও থাকায় ফ্রি র্যাডিকেল কমায়, দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমিয়ে সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করে।
সতর্কতা: অনেকেই শসা লবণ দিয়ে খেতে পছন্দ করে থাকেন। লবণ দিয়ে খেলে শসার স্বাস্থ্য উপকারিতা কমে যায় তাই লবণ ছাড়াই শসা খাওয়ার অভ্যাস করা উচিত এতে পুরোপুরি উপকারিতা পাওয়া যাবে।
এইচএ