চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে জাহিদ হাসান (২৭) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের হারু শাহের মাজারের পাশের একটি ঘাসের জমি থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
মৃত জাহিদ হাসান একই উপজেলার কেডিকে ইউনিয়নের খয়েরহুদা গ্রামের মৃত আশরাফ আলীর ছেলে। তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন এলাকাবাসী। পরকীয়া সংক্রান্ত কারণে কয়েকজনের সঙ্গে তার বিরোধ ছিল বলে জানা গেছে। লাশের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে হারু শাহের মাজারের পাশে একটি ঘাসের জমিতে অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে জমির মালিক গোলাম রসুল ৯৯৯ এ কল দেন। পরে জীবননগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ইতোমধ্যে লাশটি খয়েরহুদা গ্রামের জাহিদের বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। পরিবারের লোকজন ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য লাশ শনাক্ত করেছেন।
নিহত জাহিদের ফুফাতো ভাই সাবেক ইউপি সদস্য আব্বাস আলী জানান, ‘গত রাত থেকে জাহিদকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। আমরা একাধিক জায়গায় জাহিদকে খুঁজেছি কিন্তু কোন খোঁজ পাইনি। পরে ফোনে জানতে পারলাম এখানে একটি মৃতদেহ পড়ে আছে। পরে দেখি এটি আমার মামাতো ভাই জাহিদের মরদেহ।’
এ ছাড়াও তিনি বলেন, ‘পেয়ারাতলা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে প্রবাসী পারভেজের স্ত্রী উর্মির সঙ্গে জাহিদের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। আর এ কারণে তারা প্রায় জাহিদকে মেরে ফেলার হুমকি দিত।’
এ ব্যাপারে পারভেজের স্ত্রী উর্মীর সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ আট মাস আগে তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল। কিন্তু এখন আমার তার সঙ্গে কোন যোগাযোগ নেই। তবে গতরাত্রে নয়টার দিকে আমাকে ফোন দিয়েছিল শেষবারের মতো সে দেখা করতে চায়। কিন্তু আমি দেখা করিনি। আমি মৃত্যুর কারণ কোন কিছুই বলতে পারব না।’
লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ জানান, সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ইখা