এইমাত্র
  • আপিলেও বাতিল চুন্নুর মনোনয়ন
  • ভোলায় স্ত্রী হত্যায় স্বামী গ্রেফতার
  • বিসিবির অর্থ কমিটির দায়িত্বে বুলবুল
  • উপদেষ্টা পরিষদে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দায়মুক্তি অধ্যাদেশের অনুমোদন
  • ইসলামী আন্দোলনকে সঙ্গে নিয়েই আসন ঘোষণার আশা মামুনুল হকের
  • রংপুরে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার
  • নাজমুলকে সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিচ্ছে বিসিবি
  • সংসদ নির্বাচনে আ.লীগের অংশগ্রহণ করার সুযোগ নেই: উপদেষ্টা রিজওয়ানা
  • সাবিনার জোড়া গোলে উড়ে গেল ভারত
  • ঝালকাঠিতে সিগারেট ডিলারের দেড় লাখ টাকা ছিনতাই
  • আজ বৃহস্পতিবার, ২ মাঘ, ১৪৩২ | ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    ভেদরগঞ্জে কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পে কোটি টাকার হরিলুট

    বিপ্লব হাসান হৃদয়, শরীয়তপুর প্রতিনিধি প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম
    বিপ্লব হাসান হৃদয়, শরীয়তপুর প্রতিনিধি প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম

    ভেদরগঞ্জে কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পে কোটি টাকার হরিলুট

    বিপ্লব হাসান হৃদয়, শরীয়তপুর প্রতিনিধি প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম

    শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে গ্রামীণ সড়ক ও বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য সরকারের কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) ও কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) প্রকল্পে হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে। 

    সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি বা আংশিক সমাপ্ত না করেই পুরো বিল প্রদান করেছেন ভেদরগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)। 

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ইউপি সদস্য বিষয়টি নিয়ে জানিয়েছেন, প্রতি এক লাখ টাকায় ২০-৩০ হাজার টাকা বিভিন্ন অযুহাতে পিআইও ও তার অফিসের লোকজন কমিশন হিসেবে কেটে রাখে, আমরা পুরো কাজ করতে টাকা পাবো কই? বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করায় গণমাধ্যমকর্মীদের গালিগালাজ করে বিভিন্ন হুমকি প্রদান করেছেন শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী উজ্জল মন্ডল।

    এমন ঘটনার পরে স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ অন্যান্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবছর ভেদরগঞ্জের সব ইউনিয়নে গ্রামীণ সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য সরকার কাবিখা প্রকল্পের আওতায় ৮৩ দশমিক ৫৩ টন গম যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ২৯ লাখ ২৩ হাজার ৫৫০ টাকা, কাবিখা প্রকল্পের আওতায় ৮৩ দশমিক ৫৩ টন চাল যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ২৯ লাখ ২৩ হাজার ৫৫০ টাকা ও কাবিটা প্রকল্পের আওতায় ১ কোটি ৪০ লাখ ৫১ হাজার ৩৯ টাকা বরাদ্ধ দেয় সরকার। 

    কিন্তু উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের যোগসাজসে কাবিখা ও কাবিটার কাজ আংশিক বা পুরো সম্পন্ন না করেই বিল প্রদান করেছেন পিআইও। যেসব সড়কে প্রকল্পের আওতায় সংস্কার হওয়ার কথা তার আশেপাশের স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউই জানেন না যে সড়কটি সংস্কার হয়েছে। অথচ কাগজপত্রে সড়ক হয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করায় ভেদরগঞ্জ উপজেলার দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী উজ্জল মন্ডল গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূরক আচরণ করে হুমকি প্রদান করেন। 

    সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উত্তর তারাবুনিয়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের গায়েন বাড়ির মসজিদ থেকে উত্তর দিকের দোকান পর্যন্ত মাটির রাস্তা নির্মাণ ও পূনঃনির্মাণ করার জন্য বরাদ্ধ হয় ২ লাখ ২৭ হাজার টাকা মূল্যের গম। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস জানায়, সংশ্লিষ্ট সড়কটির কাজ সম্পন্ন হয়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্টদের বিল প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয়রা জানিয়েছেন এবছর তো দূরে থাকুক। গত পাঁচ বছরেও এই সড়ক এক কোদাল মাটিও সরকার বা কোনো মেম্বার চেয়ারম্যান ফালায়নি। 

    দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের আফা মোল্লা বাজারের ট্রলার ঘাট থেকে দক্ষিণে গিয়াস উদ্দিন প্রধানিয়ার বাড়ি পর্যন্ত মাটির রাস্তা নির্মাণের জন্য বরাদ্ধ হয় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার গম।

    কিন্তু স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এবছর এই সড়কে কেউ মাটি ফালায়নি। কিন্তু একদিন মাত্র ২ জন শ্রমিক এসে রাস্তার পাশের ঘাস পরিস্কার করে দিয়ে গেছে। ঘাস পরিস্কার করতে গিয়ে উঁচু নিচু সড়ক সামন্তরাল করার চেষ্টা করেছে। 

    প্রকল্পের সভাপতি স্থানীয় চেয়ারম্যান সেকান্দর খান জানান, কাজ শেষ করে ইতিমধ্যেই তিনি বিল তুলে নিয়েছেন। এবং কাজটি অফিসের নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে বলে দাবী তার। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা নয় অফিসের সাথে যোগাযোগ করার কথা বলেন চেয়ারম্যান সেকান্দর খান। 

    এ বিষয় গায়েন বাড়ি এলাকার মানিক গায়েন বলেন, গত ৩-৪ বছরে এই সড়কে কোনো কাজ হয়নি। এক কোদাল মাটিও কাটা হয়নি। আমি সব সময় এই সড়কের কাছে থাকি, আমার দুই চোখে আমি দেখিনি যে এই সড়কে কাজ হয়েছে। এখন আপনারা বলতেছেন, কাজ হয়ে গেছে। কাজটা হলো কখন? গত ৩-৪ বছর ধরে একই চিত্র সড়কের। 

    আফা মোল্লা বাজার এলাকার আব্দুস সালাম জানান, আমি পেশায় একজন অটোচালক। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করি। যদি কেউ সড়কে কাজ করত, তাহলে আমি দেখতে পেতাম। যদি গভীর রাতেও কেউ কাজ করে থাকেন, তাহলে তারও কোনো প্রমাণ সড়কে দেখা যায়নি। কাগজপত্রে অনেক কিছুই হয়, বাস্তবতা ভিন্ন জিনিস।

    বিষয়টি নিয়ে জানার জন্য ভেদরগঞ্জ উপজেলার দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখায় গেলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে অফিসে পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী উজ্জল মন্ডলের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, বিল প্রদান করার নিয়ম আছে বিধায় আমরা বিল প্রদান করেছি। যদি কেউ বিল নিয়ে কাজ না করেন, তাহলে লাল তালিকা করে টাকা ফেরত আনবে সরকার। কাজ না করে বিল দেওয়া যায়, এমন প্রমাণপত্র চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে পড়েন উজ্জল মন্ডল। তিনি পুরো বিষয়টির বক্তব্য না দিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে অফিস থেকে চলে যান। এসময় তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে তাদের ছবি তুলে রাখেন। 

    এ বিষয়ে ভেদরগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) হাসান মাহমুদ বলেন, আমি এক সঙ্গে দুইটি উপজেলার দায়িত্বে থাকায় প্রকল্পের কাজসমূহ সঠিক ভাবে তদারকি করা সম্ভব হয়নি। যদি কাজ না করে কেউ বিল নিয়ে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

    বিষয়টি নিয়ে ভেদরগঞ্জের উপজেলা নির্বাহি অফিসার (ইউএনও) হাফিজুল হক বলেন, অভিযোগের বিষয়গুলো আমি শুনেছি। যারা কাজ না করে বিল নিয়ে গেছে, তাদের বিষয়ে আমি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

    এসআর

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    Loading…