ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলন্তবাসে এক কলেজছাত্রীকে (২৬) রাতভর গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে মহাসড়কের করটিয়া আন্ডারপাস এলাকা থেকে বাসের চালক, হেলপারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- বাসের চালক মো. আলতাফ (২৫), হেলপার মো. সাগর (২৪) ও চালকের সহযোগী মো. রাব্বি (২১)।
মধুপুর (এলেঙ্গা) হাইওয়ে থানার এসআই মাহবুবুর রহমান জানান, মহাসড়কে ডিউটি করার সময় তারা করটিয়ার একটি হোটেলে নাস্তা করছিলেন। বাসের মেয়ে এবং চালক-হেলপাররাও সেখানে নাস্তা করছিল। পুলিশ দেখে চালক-হেলপাররা মেয়েটাকে কৌশলে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়। হঠাৎ এক ব্যক্তি বাসের ওখানে ছিনতাই হচ্ছে বলে শব্দ করে স্থান ত্যাগ করে। তখন পুলিশের সন্দেহ হলে তারা বাসের কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে মেয়েটা কান্না করে ঘটনা খুলে বলে। পরে তাদের ৩ জনকে আটক এবং মেয়েটাকে উদ্ধার করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।
মধুপুর (এলেঙ্গা) হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শরীফ জানান, বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজের দর্শন বিভাগের জনৈক ছাত্রী (২৬) ঢাকার রেডিওকলোনি থেকে আশুলিয়া যাওয়ার জন্য সাভার পরিবহনের চন্দ্রা টু ঢাকার গাড়িতে ওঠেন। বাসে তখন দুইজন যাত্রী ছিলেন। পরে যাত্রীরা নামার পর ওই কলেজছাত্রীকে জোর করে আটকে রেখে চালক-হেলপার। এ সময় হেলপারের সহযোগী মেয়েটির সঙ্গে থাকা স্বর্ণালংকার, টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। পরে বাসটি বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরা করে ওই তরুণীকে রাতভর দলবদ্ধ যৌন নিগ্রহ চালায় ও সে দৃশ্য ভিডিও ধারণ করে। পরে যমুনা সেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কের ঢাকাগামী লেনের করটিয়া আন্ডারপাস এলাকায় মহাসড়কের ওপর বাসটি সন্দেহজনক অবস্থায় দাঁড় করালে হাইওয়ে পুলিশ বাসটিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনা জানতে পারে।
তিনি জানান, ভিকটিমসহ গ্রেপ্তারকৃতদের গাড়ি সহ টাঙ্গাইল সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এমআর-২