সংস্কার নিয়ে বিভিন্ন মহলে নেতিবাচক কথা রটানো হলেও বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যতটা সংস্কার হয়েছে বলে দাবি করেছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে এতো কম সময়ে তেমনটি এর আগে আর হয়নি। এটা সবিনয় বলব এবং অত্যন্ত জোরে বলব।
আজ রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনে শাসন’ শীর্ষক সংলাপে এই দাবি করেন তিনি।
সংলাপের আয়োজক সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আইন উপদেষ্টা। রাজনীতিক, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এই সংলাপে অংশ নেন।
এসয় আসিফ নজরুল বলেন, কিছু মানুষের কাছে সংস্কার নিয়ে নেতিবাচক কথা উদ্দীপকের মতো। বাড়তি ভিউ পাওয়া যায়। কোনো সংস্কার হয় নাই, এটা ঠিক নয়। যথেষ্ট হয়েছে। এক্সপেকটেশন যদি ১০ থাকে, অন্তত চার তো অর্জন করতে পেরেছি। তবে পুলিশ সংস্কার যেভাবে করতে চেয়েছি, সেভাবে হয়নি।
অনেকে বলেন, কোনো সংস্কার হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে শুধু ফিন্যান্সিয়াল ও ব্যাংকিং সেক্টরে যে সংস্কার হয়েছে, তার ফল সবাই দেখতে পাচ্ছে। ব্যাংকিংয়ের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরে এসেছে। রেমিট্যান্স যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল আছে। এগুলো সংস্কার ছাড়া করা সম্ভব ছিল না। তাই কোনো সংস্কার হয়নি—কথাটি ঠিক নয়। যথেষ্ট সংস্কার হয়েছে। সময়ের বিবেচনায় হয়তো আরও হতে পারত।
যেসব সংস্কার হয়েছে, তা নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন করেন আসিফ নজরুল। উদাহরণ হিসেবে তিনি পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশের কথা বলেন। এটি নিয়ে তাঁর নিজেরও হতাশা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তারপরও যেটা হয়েছে, সেটা তুচ্ছ নয়।
সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকে বলেন, সরকার কারও সঙ্গে কোনো পরামর্শ করেনি। এটা খুব হাস্যকর একটা কথা। যে কমিশনগুলো করা হয়েছে, এত এক্সটেনসিভ লেভেলে কনসালটেশন ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন করার সময়ও করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র ১০ বছর জয় বাংলা আর বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বললে বিচারক হতে পারবেন না। উচ্চ আদালতেও কিছু সংস্কারের প্রয়োজন, সেটা উচ্চ আদালত থেকেই হবে।
আইন উপদেষ্টা বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য যা যা আইন করা দরকার, সবই আমরা করেছি। এর ধারাবাহিকতায় রুল অব ল প্রতিষ্ঠায় আরও ৫/১০ বছর লাগবে। আমরা সংস্কারের পথে এগিয়েছি। নির্বাচিত সরকার এ ধারা ধরে রাখলে জনগণ সংস্কারের সুফল পাবে।
এইচএ