কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার মেঘনা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে একাধিক বিষধর সাপ, সাপের বাচ্চা ও ডিমসহ গভীর বাসা উদ্ধারের ঘটনায় জননিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ে। পরিস্থিতি বিবেচনায় অফিসটি সাময়িকভাবে তালাবদ্ধ রাখা হয়। এতে দাপ্তরিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে জনসেবা ব্যাহত হচ্ছিল। এ অবস্থায় দ্রুত অফিস স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছে জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল থেকে দিনব্যাপী সাব-রেজিস্ট্রি অফিস স্থানান্তর কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে, গত ১৮ জানুয়ারি (রবিবার) জেলা রেজিস্ট্রারের কর্মকর্তা মুনিরুল হাসানের স্বাক্ষরিত এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মেঘনা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসটি মেঘনা উপজেলার মানিকারচর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের সামনে উত্তর বাউশিয়া এলাকায় অবস্থিত। সম্প্রতি কার্যালয় প্রাঙ্গণে একাধিক বিষধর সাপের উপস্থিতি ধরা পড়ার পর অফিসে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় দীর্ঘদিন অফিসটি তালাবদ্ধ রাখতে হয় এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে।
এ প্রেক্ষাপটে নিবন্ধন অধিদপ্তরের পূর্বানুমোদনের ভিত্তিতে অফিসটি দ্রুত নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী মেঘনা উপজেলা পরিষদ ও মেঘনা থানার নিকটবর্তী মেঘনা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত ড. মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল কাদিরের মালিকানাধীন মেঘনা প্লাজার প্রথম তলায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসটি স্থানান্তর করা হচ্ছে।স্থানান্তর প্রক্রিয়া শেষে নতুন কার্যালয়ে স্বাভাবিক দাপ্তরিক কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তার জন্য জেলা প্রশাসক কুমিল্লা, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (মেঘনা) ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে অবহিত করা হয়েছে।
কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে অফিস পরিচালিত হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিষধর সাপ উদ্ধারের ঘটনায় বিষয়টি সামনে আসায় প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। নতুন স্থানে অফিস চালু হলে জনসেবা স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন সেবাগ্রহীতারা।
মেঘনা প্লাজার মালিক ড. মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল কাদির বলেন, ‘জনস্বার্থে সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে পারলে সেটাই আমাদের বড় প্রাপ্তি। সরকার চাইলে একর হিসেবে প্রয়োজনীয় জায়গা দিতে আমি প্রস্তুত আছি।’
এ বিষয়ে মেঘনা সাব-রেজিস্ট্রার কর্মকর্তা মোহাম্মদ হানিফ বলেন, ‘জননিরাপত্তাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। কার্যালয় এলাকায় বিষধর সাপের উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়। নিবন্ধন অধিদপ্তরের অনুমোদন ও জেলা রেজিস্ট্রারের নির্দেশনায় দ্রুত নিরাপদ স্থানে অফিস স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানান্তর প্রক্রিয়া শেষ হলেই নতুন কার্যালয়ে নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম চালু করা হবে।’
আরডি