শেষ বলের নাটকীয়তায় বিপিএলের এলিমিনেটর থেকে বিদায় নিল রংপুর রাইডার্স। আর সেই রুদ্ধশ্বাস মুহূর্তে জয় ছিনিয়ে নিয়ে দ্বিতীয় কোয়ালিফারার নিম্চিত করেছে সিলেট টাইটান্স।
শেষ বলে জয়ের জন্য সিলেটের প্রয়োজন ছিল ছয় রান। আর এই বলে দুর্দান্ত এক শটে বল গ্যালারিতে পাঠান সিলেট টাইটান্সের ইংলিশ অলরাউন্ডার ক্রিস ওকস। এতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে সিলেট শিবির।
মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন সিলেট অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। শুরু থেকেই রংপুরের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান সিলেটের বোলাররা।
নতুন বলে ক্রিস ওকস ও খালেদ আহমেদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণে শুরুতেই চাপে পড়ে যায় রংপুর। মাত্র ২৯ রানের মধ্যেই চার উইকেট হারায় উত্তরের দলটি।
তাওহীদ হৃদয়, ডেভিড মালান, লিটন দাস ও কাইল মেয়ার্স—চারজনই এক অঙ্কের ঘরে ফিরে যান। দলের শুরুর এই বিপর্যয়ে বড় সংগ্রহের স্বপ্ন তখনই ধাক্কা খায়। এরপর খুশদিল শাহ ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। খুশদিল ১৯ বলে ৩০ রান করে ইনিংসে গতি আনলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি।
এরপর রিয়াদের সঙ্গে ইনিংস গড়ার চেষ্টা করেন নুরুল হাসান সোহান। কিন্তু সোহান প্রত্যাশা অনুযায়ী জ্বলে উঠতে পারেননি। রিয়াদ ২৬ বলে ৩৩ রান করে দলের সর্বোচ্চ স্কোরার হলেও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে রংপুর থামে মাত্র ১১১ রানে।
সিলেটের বোলিংয়ে সবচেয়ে সফল ছিলেন খালেদ আহমেদ। মাত্র ১৫ রান দিয়ে চার উইকেট তুলে নেন এই পেসার। ক্রিস ওকস ও নাসুম আহমেদ নেন দুটি করে উইকেট।
সহজ লক্ষ্য তাড়ায় নেমেও শুরুটা ভালো হয়নি সিলেটের। মাত্র ২ রানের মাথায় তৌফিক খানকে হারায় তারা। পারভেজ হোসেন ইমন কিছুটা দৃঢ়তা এনে ১২ বলে ১৮ রান করলেও তার বিদায়ের পর আবার চাপে পড়ে দল।
এরপর আরিফুল ইসলাম ও আফিফ হোসেন দ্রুত ফিরে গেলে ম্যাচ জমে ওঠে। তবে অধিনায়ক মিরাজ ও স্যাম বিলিংস ধৈর্য ধরে ইনিংস এগিয়ে নেন। মিরাজ ২৩ বলে ১৮ রান করে আউট হলে সমীকরণ আরও কঠিন হয়ে যায়। শেষ দুই ওভারে প্রয়োজন ছিল ১৫ রান।
১৯তম ওভারে মুস্তাফিজুর রহমান ফেরান ২৯ রান করা বিলিংসকে। শেষ ওভারে ফাহিম আশরাফের বলে মঈন আলীও বিদায় নেন। তখন শেষ বলে দরকার ছয় রান। চাপের মুহূর্তে কোনো ভুল করেননি ক্রিস ওকস। লং অনের ওপর দিয়ে উড়িয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে নিশ্চিত করেন সিলেটের জয়।
আরডি