পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত কয়েক মাসের ব্যবধানে মিয়ানমার সীমান্তে আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে বান্দরবান, নাইক্ষ্যংছড়ি, উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তবর্তী এলাকার বেশ কয়েকজন বাসিন্দা পা হারিয়ে পঙ্গু হয়েছেন।
এদিকে, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নাফ নদীর কিনারায় চলাচলকারী স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলেদের সচেতন করার পাশাপাশি টহল জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এরই ধারাবাহিকতায়, মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উলুবনিয়া সীমান্ত এলাকা থেকে ১০টি স্থল মাইনের ট্রিগার অংশ (চাপ প্লেট) উদ্ধার করেছে বিজিবি।
উদ্ধারকৃত এসব অংশে কোনো বিস্ফোরক না মিললেও বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছে বিজিবি।
এ বিষয়ে হোয়াইক্যং সীমান্তের বেশ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালায়। এ সময় তারা মাইন বোমার ১০টি ট্রিগার অংশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
তারা আরও জানান, নাফ নদীর কিনারা সংলগ্ন এলাকায় আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা মাইন এবং ওপার থেকে ছিটকে আসা গুলির আতঙ্কে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় জেলে ও কৃষক পরিবারের অসহায় মানুষগুলো।
উখিয়া-টেকনাফ (আংশিক) সীমান্ত এলাকায় দায়িত্বরত ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল জহিরুল ইসলাম জানান, হোয়াইক্যং উলুবনিয়া সীমান্ত এলাকা থেকে মাইন বোমার উপরের ১০টি ট্রিগার অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলোতে কোনো বিস্ফোরক দ্রব্য ছিল না। তবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ দলের মাধ্যমে এগুলো পরীক্ষা করার প্রক্রিয়া চলছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ জানুয়ারি হোয়াইক্যং সীমান্তে নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে হানিফ নামে এক যুবকের পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর আগে রাখাইন রাজ্যে চলা সংঘর্ষের জেরে এপারে ছিটকে আসা গুলিতে হুফাইজা আফনান নামে এক শিশু গুরুতর আহত হয়, যে এখনো মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।
এনআই