বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, "যারা আগে দেশের টাকা চুরি করেছে, তারা এখনো চুরি করছে। যারা ব্যাংক লুণ্ঠন ও চাঁদাবাজি করেছে, তারা এখনো সেই অপকর্মে লিপ্ত। ১২ তারিখ দেশের সাড়ে ১২ কোটি ভোটার তাদের জন্য ‘লাল কার্ড’ তৈরি করে রেখেছেন।"
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নাটোর নবাব সিরাজ-উদ্-দৌলা সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “লুটেরারা ও শেয়ারবাজার লুণ্ঠনকারীরা এ দেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। আল্লাহ যদি আমাদের সামর্থ্য দেন, তবে পাচার হওয়া সেই টাকা উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা হবে। দেশের যে এলাকা যতটা বঞ্চিত, সেখানে আগে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে। যার যেটা প্রাপ্য, তাকে তা বুঝিয়ে দেওয়া হবে।”
দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “আমরা এমন ন্যায়বিচার চাই যা সবার জন্য সমান হবে। একজন সাধারণ মানুষ অপরাধ করলে যে শাস্তি পাবেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি একই অপরাধ করলে তাঁকেও একই বিচারের আওতায় আনতে হবে। জাতি এমন ইনসাফ দেখার জন্যই মুখিয়ে আছে।”
তরুণ প্রজন্মের ওপর আস্থা প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, “আমাদের যুবসমাজ দেশ গড়ার যে সুযোগ পাওয়ার কথা ছিল, তা দেওয়া হয়নি। আমরা ইনশাআল্লাহ সেই সুযোগ নিশ্চিত করব।”
নির্বাচিত হলে শিশু ও বয়স্কদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, “পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুরা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা পাবে। এছাড়া ৬০-৬৫ ঊর্ধ্ব প্রবীণ নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবার পূর্ণ দায়িত্ব সরকার গ্রহণ করবে।”
নির্বাচনী জনসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ এবং চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম রনিসহ জেলা জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
এনআই