ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে একটানা ভোটগ্রহণ চলে। দিনভর কোথাও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এ সংসদীয় আসনটি বাঁশখালী উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ উপজেলায় রয়েছে মোট ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৫৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৩ হাজার ৮১৮ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৯০ হাজার ৭৩৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪ জন। ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল তুলনামূলক সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা।
ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রভিত্তিক গণনা শেষে প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৮৯ হাজার ৯৬০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। দীর্ঘ সময়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক লড়াই শেষে তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করে জয় নিশ্চিত করেন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৮২ হাজার ২৩৭ ভোট। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ লেয়াকত আলী ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৭১ ভোট। ফলাফলে দেখা যায়, তিন প্রার্থীর মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমাবদ্ধ ছিল।
অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাফেজ রুহুল্লাহ হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৯৭৮ ভোট। গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. আরিফুল হক ট্রাক প্রতীকে পেয়েছেন ২৪১ ভোট। ইসলামিক ফ্রন্টের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল মালেক চেয়ার প্রতীকে পেয়েছেন ৮১১ ভোট এবং মুসলিম লীগের প্রার্থী এহছানুল হক হারিকেন প্রতীকে পেয়েছেন ১০৪ ভোট।
ভোটগ্রহণ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে দায়িত্ব পালন করেন। ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ, আনসার ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। প্রশাসন সূত্র জানায়, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দিনভর ভোটারদের উপস্থিতি সন্তোষজনক ছিল। বিশেষ করে সকাল ও বিকেলের দিকে বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিল। ভোটাররা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
এসআর